SOMOYERKONTHOSOR

মাহমুদুল্লাহ’র ছয়, ব্রেট লি’র ‘হা’!

স্পোর্টস ডেস্কঃসিনেমায় সাধারণত নায়কের সাথে একটা পার্শ্বনায়ক থাকে কিংবা থাকে নায়কের খুব ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু যে কি-না নায়কের ‘নায়ক’ হওয়ার পিছনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে বা নায়ককে সফল হতে করে বেশ বড়সড় ত্যাগ। কিন্তু দিনশেষে জয়জয়কার সেই আসল নায়ককে ঘিরেই। কারো আর মনে থাকে না সেই উপকারী, পরোপকারী নায়কের বন্ধুটিকে!

‘মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ’- তেমনই একজন পার্শ্বনায়ক, নায়কের বন্ধু! যিনি কি-না সিনেমার খেলায় কিংবা খেলার সিনেমায় বরাবরই সবথেকে বড় ভূমিকা রাখেন, কিন্তু থাকেন ‘লাইম-লাইট’-এ। প্রচার-প্ররোচনাবিমুখ, সাধাসিধে এই মানুষটি বরাবরই থেকে যান পর্দার আড়ালে। মুখচোরা এই মানুষটিই বাংলাদেশের অনেকগুলো স্মরণীয় জয়ের কান্ডারী। আর এই ২২ গজের সিনেমা বোধ হয় সকল রকম ‘এক্সাইটিং’, ‘থ্রিলিং’ সিনেমাকেও হার মানাবে!

বাংলাদেশে কোন ‘ম্যাচ-ফিনিশার’ নেই- এমন একটা আপ্তবাক্য যেন অনেকটাই রপ্ত হয়ে গেছে অনেকের। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সাথে সর্বশেষ ম্যাচে ‘ম্যাচ-উইনিং’, ‘ম্যাচ-ফিনিশিং’ কিংবা চোখ  ধাঁধানো যে প্রদর্শনী মাহমুদুল্লাহ প্রদর্শন করলেন- তাতে তামাম বিশ্বেরই যেন চোখ ছানাবড়া।  মাহমুদুল্লাহ’র ‘উইনিং সিক্স’-এ চোখ কপালে ওঠে অনেক আলোচক-সমালোচকদের। প্রেমাদাসার স্টেডিয়ামে নেমে আসে স্তব্ধতা, পিনপতন নীরবতা। আর সবচেয়ে দর্শনীয়-মোহনীয় দৃশ্য তো ধারাভাষ্য দেওয়া বিস্ময়ে বিস্মিত ব্রেট লি’র হা করে থাকা মুখখানা! যেন অতি বিস্ময়েই হতবাক হয়ে পড়েন তিনি। শুধু ব্রেট লি’ই নন, কিংকর্তব্যবিমূঢ় যেন সবাই। আবেগে যে তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের চোখের কোণে জল এসে যাওয়া অবস্থা!

অলিখিত সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভারত। দুয়ে দুয়ে চার মেলালে দাঁড়ায়- নিদাহাস ট্রফি মাত্রই আর একটা ম্যাচ দূরে। ‘তীরে এসে তরী ডোবা’-এর মত অঘটন আর না ঘটুক। সেটা হয়ে যাক ইতিহাস।

সময়ের কণ্ঠস্বর/ফয়সাল