শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ-ভারত, সম্ভাবনা দেখছেন মাশরাফি

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- ক্রিকেটে যে কোনো হিসেব ও মানদন্ডে বাংলাদেশের তুলনায় ভারত অনেক এগিয়ে। শক্তি-সামর্থ্য আর সাফল্যে ভারতীয়রা যোজন-যোজন এগিয়ে। তবুও প্রায় এক যুগ হতে চললো বাংলাদেশ আর ভারত একদিনের সীমিত ওভারের ম্যাচ মানেই বাড়তি আকর্ষণ, উত্তেজনা ও প্রাণচাঞ্চল্য। কেন এমন বাড়তি আকর্ষণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাতাবরণ ও প্রাণ চাঞ্চল্য?

Loading ...

কারণ একটাই, এই বাংলাদেশের কাছে হেরে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়েছিল ভারতের। এরপর থেকে একদিনের সীমিত ওভারের ফরম্যাটে বাংলাদেশ অন্যরকম প্রতিপক্ষ ভারতের।

দু’দেশের ক্রিকেটার, ভক্ত ও সমর্থকদের কাছেও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ একটা ধুন্ধুমার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, দু’দলের মধ্যে একটা মনস্তাত্বিক লড়াইয়ের উপজীব্যও উপস্থি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কলম্বোয় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে আজ সেই ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। নিদাহাস ট্রফির আগে অনেকেই বাংলাদেশকে পাত্তা দিতে চায়নি। কিন্তু তাদের হিসেব উল্টে দিয়ে, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ‘দর্শক’ বানিয়ে টাইগাররা আজ ফাইনালে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শিরোপা-যুদ্ধ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। আর তাই এবার ভারত-বধের ভালো সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা।

আজ জিততে পারলে একই সঙ্গে দুটি গেরো খুলে যাবে বাংলাদেশের। ফাইনালে মাশরাফি ভারতের চার ক্রিকেটার- রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, যুজবেন্দ্র চাহাল ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে ভালোভাবে সামলানোর কথা বললেন। তাদের আটকাতে পারলেই টাইগারদের জয়ের ভালো সম্ভাবনা দেখছেন মাশরাফি।

কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিনি বলেন, ‘ওখানে (শ্রীলংকায়) সিনিয়র খেলোয়াড় ও কোচ যারা আছেন তারা নিশ্চয়ই একটা পরিকল্পনা করবেন। তবে রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান- এ দু’জনকে যদি আমরা দ্রুত ফেরাতে পারি তাহলে ম্যাচটা আমাদের হাতে থাকবে। একই সঙ্গে চাহাল ও ওয়াশিংটনকে ঠিকভাবে খেলতে হবে। এই চারজনকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করলে আমাদের দিকে ম্যাচটা আসতে পারে।’

বাংলাদেশ টি ২০ ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩টি ম্যাচ জিতেছে। মাশরাফির চোখে এ জয়গুলোর সেরা দুটিই এসেছে নিদাহাস ট্রফিতে। তিনি বলেন, ‘টি ২০তে বাংলাদেশের সেরা দুই জয় যদি হিসাব করা হয় তাহলে এই নিদাহাস ট্রফির দুটিই হবে।

মুশফিক দারুণভাবে প্রথমটা জিতিয়েছিল। কাল (শুক্রবার) রিয়াদ জেতালো। কোনো অংশে তামিমের অবদান কম না, লিটনেরও অবদান ছিল। কাল (শুক্রবার) তামিম আউট না হলে আরও আগে জিততে পারতাম। দুই ম্যাচেই তামিমের বিশাল অবদান আছে।’

শেষ ছয় বলে ১২ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। এরপর চার বলে দরকার হয় ১২ রানের। তৃতীয় বলে মাহমুদউল্লাহ চার মারতেই মাশরাফি বুঝে যান বাংলাদেশ জিতবে। তিনি বলেন, ‘চার বলে যখন ১২ লাগবে, ওই সময় রিয়াদ প্রথম চারটা মারে। তখনই মনে হয়েছে সম্ভব।

তার আগে ‘নো’ বলটা আমাদের পক্ষে আসতে পারত। পরে রিয়াদ যেভাবে খেলেছে সেটা অসাধারণ। ১৮ বলে অপরাজিত ৪৩। প্রথম থেকেই যেভাবে আক্রমণ করেছে তা ছিল দারুণ। টি ২০ ম্যাচে আসলে এরকম একজনকে খেলতে হয়। প্রতিদিন রিয়াদ খেলবে না, কাউকে না কাউকে খেলতে হবে।’

দুই বছর পর কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের মার্চে মিরপুরে ২০ ওভারের এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে টাইগাররা হার মেনেছিল ৮ উইকেটে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি