ফের জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ, আহত ২০

জবি প্রতিনিধি: ফের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ল (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাটুয়াটুলি ঘড়ি ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পাটুয়াটুলির কয়েক হাজার ঘড়ি ব্যবসায়ী সংঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে ও গাড়িতে ভাংচুর চালিয়েছে। রবিবার বেলা ১২টার দিকে এই ঘটনায় প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী, পথচারী আহত হওয়া সহ কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাবেয়া ইলিয়াস মার্কেটের ৬০ নং দোকান মক্কা ওয়াচে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইদুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী ঘড়ি কিনতে যায়। এসময় দোকানের দেওয়ালে ঝোলানো কাঁচের শোকেস থেকে একটি ঘড়ি বের করে সাইদুর। পরে ঘড়িটির দাম জানতে চায় দোকানের কর্মচারীর কছে। এতে চড়াও হয় ওই কর্মচারী।

এসময় সাইদুর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এক পর্যায়ে সাইদুরকে পিটিয়ে দোকান থেকে বের করে দেয়। এই ঘটনা তার কয়েক জন বন্ধু জানতে পেরে ওই দোকানে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে মারধরকারী ওই কর্মচারী দোকান থেকে সটকে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা সটকে পাড়া ওই কর্মচারীকে দোকানে হাজির করতে বলে দোকানের বাকি সদস্যদেরকে। এতে তারা আবারও চড়াও হয়ে সংঙ্গবদ্ধভাবে তাদেরকে ধাওয়া দেয়। এসময় তারা ক্যাম্পাসে ফিরে এসে লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে যায়।

এসময় পাটুয়াটুলির ঘড়ি ব্যবসার প্রায় দুই হাজার মালিক, কর্মচারী এবং স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়লে ব্যবসায়ীরা রাবেয়া ইলিয়াস মার্কেট এবং নুরুল হক মার্কেটের ছাদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংক ভবন, কর্মচারী আবাস স্থল, বিজ্ঞান ভবনের জানালা, এসি এবং গাড়িতে ইটপাটকেল এবং লাঠিসোটা দিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী পথচারী ও কর্মচারী আহত হয়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে কোতয়ারী থানার ওসি মশিউর রহমান ও তার পুলিশ ফোর্স এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এবিষয়ে ঘড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম খান নবরাজ সময়েরকন্ঠস্বরকে বলেন, ছাত্ররা প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটায়। তারা এক হাজার টাকা দামের জিনিস ৩শ, ৪শ টাকায় নিয়ে যায়। কিছু বল্লে মারধর করে। তবে আজকের এই ঘটনায় আমরা কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করব।

এই বিষয়ে জবি ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা আমাদের প্রতিবেশি। তারাও এখানে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় এখানে থাকবে। তবে তারা যে ভাংচুর চালিয়েছে তা অনাঙ্খিত। এই ব্যাপারে প্রক্টরিয়াল বডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করবে। এবং এমন ঘটনার যাতে পুনাবৃত্তি না হয় এই জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্রকরে বাংলাবাজর, ইসলামপুর, বাবুবাজর, সদরঘাট এবং জনসন রোডে ব্যাপক যানযটের সৃষ্টি হয়।