ঘাটাইলে ৬ ইউপি নির্বাচন: দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও ভালো অবস্থানে সতন্ত্র প্রার্থীরা

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: আগামী ২৯ মার্চ ঘাটাইল উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। বড় দুই দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়েও নির্বাচনী মাঠে ভালো অবস্থানে আছেন সতন্ত্র প্রার্থীরা। দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে অযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ায় প্রতিবাদ স্বরূপ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন বলে জানান তারা ।

Loading ...

ছয় ইউনিয়নে মোট ২৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করে প্রতীক বরাদ্ধের কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। এদের মধ্যে ১২জন বড় দুই দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র মনোনিত প্রার্থী। অন্যান্যরা সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছে বলে নির্র্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়।

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ভোটার ও প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সন্ধানপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকে আব্দুল মতিন সরকার। অন্যদিকে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন আনারস প্রতীক নিয়ে রুহুল আমীন রিপন, ঘোড়া প্রতীকে শরিফুল ইসলাম সাইদ ও মটরসাইকেল প্রতীকে মো.সুলতান মাহমুদ।

জানা যায়, সতন্ত্র প্রার্থী তিনজনই রাজনৈতিকভাবে আওয়ামীলীগ সমর্থন করে। এদিকে ধানের শীষ প্রতীকে একক প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম শহীদকে মনোনয়ন দিয়ে সুবিধায় আছে বিএনপি। তবে এখানে লড়াই হবে ধানের শীষ- নৌকা ও আনারস প্রতীকে এমনটাই জানান ভোটাররা।

সংগ্রামপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে প্রার্থী মোঃ আব্দুর রহিম এবং ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি’র মাহবুবুর রহমান পালন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন আনারস প্রতীক নিয়ে মোঃ গিয়াস উদ্দিন বাবু ও হাত পাখা প্রতীকে মোঃ ইব্রাহিম। রাজনৈতিকভাবে মোঃ গিয়াস উদ্দিন বাবু আওয়ামীলীগ সমর্থন ও মোঃ ইব্রাহিম ইসলামী আন্দোলন করেন বলে জানা যায়। এই ইউনিয়নে আলোচনায় নৌকা-ধানের শীষ ও আনারস থাকলেও রাজনিৈতক বিরোধের কারণে ধানের শীষ ও আনারসকে এগিয়ে রাখছেন ভোটাররা।

রসুলপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি’র মোঃ শামছুল আলম। আওয়ামীলীগ সমর্থন করা আনারস প্রতীকে এমদাদ সরকার ও রজনীগন্ধা প্রতীকে এলাকায় পরিচিতি লাভের জন্য আছেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। ভোটারদের জটিল অংক কষার ফলাফলে এগিয়ে রেখেছেন ধানের শীষ ও আনারসকে।

লক্ষিন্দর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে আছেন মোঃ আব্দুল আজিজ ও বিএনপি’র ধানের শীষে মোঃ মোফাজ্জল হোসেন। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধীতা করা তিনজন প্রার্থীই আওয়ামীলীগ সমর্থন করেন বলে জানা যায়। আনারস প্রতীকে মোঃ এসকান্দর, ঘোড়া প্রতীকে সুজন চন্দ্র ও চশমা প্রতীকে মোঃ একাব্বর আলী। ভোটাররা জানান নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলে লড়াইটা জমবে আনারস-ধানের শীষে।

ধলাপাড়া ইউনিয়নে মোঃ শফিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী ও ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি’র এজহারুল ইসলাম ভূইয়া মিঠু। সব ইউনিয়নে বিএনপি একক প্রার্থী দিলেও ধলাপাড়ায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লেবু। স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে মোঃ রবিউল ইসলাম সেন্টু ও মোটরসাইকেল প্রতীকে মোঃ নাজিবুল হক ঝন্টু উভয়েই আওয়ামীলীগ সমর্থন করেন বলে জানা যায়। নৌকা- ঘোড়া- আনারস ও ধানেরশীষে চতুরমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

সাগরদিঘী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে আস্থা হেকমত শিকদারের উপর, বিএনপি’র ধানের শীষে বাদশা ভুইয়া। সতন্ত্র প্রার্থী দল নিরপেক্ষ মোটরসাইকেল প্রতীকে হাবিবুল্লাহ বাহার, আওয়ামীলীগ ঘরনার আনারস প্রতীকে শাহাদাত শিকদার, চশমা শহিদুল ইসলাম। এখানে আওয়ামীলীগ-বিএনপি দুই দলের পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুল্লাহ বাহার। উভয় দলের প্রার্থীকেই মোকাবেলা করতে হচ্ছে মটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুল্লাহ বাহারকে।

৬ ইউনিয়নে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা চেয়ারম্যান পদে ২৮ জন, সাধারন সদস্য পদে ১৯৮ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৬৬ জন। ৬ ইউনিয়নে মোট ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৭শ ২৫জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৫ হাজার ৯শ ৩০ জন এবং মহিলা ৫৬ হাজার ৭শ ৯৫ জন।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি