হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে নবীগঞ্জের দিনারপুরে পাহাড় নিধন চলছে

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি- হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চল বলে খ্যাত দিনারপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে টিলা কেটে প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্য নষ্ট করছে একদল পাহাড় খেকো চক্র।

গত ৭/৮ দিন ধরে ওই এলাকার কান্তুুর টিলা সংলগ্ন একটি টিলা থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে পারছে না।

গত শনিবার সকালে গোপলার বাজার পুলিশ ফাঁকির একদল পুলিশের ‘লোক দেখানো’ অভিযানে সকালে সময় মাটি কাটা বন্ধ থাকলে ওই দিন বিকালেই ফের শুরু হয়ে যায় মাটি কাটা। স্থানীয় লোকজন বার বার প্রশাসনকে অবগত করার পরও প্রশাসন কোন কার্যকরী প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরের দক্ষিণ কায়স্থগ্রামের উঁচু একটি টিলা থেকে কয়েক দিন ধরে মাটি কাটছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের সোহেল, মারুফসহ একটি স্থানীয় প্রভাবশালী পাহাড় খেকো চক্র ওই টিলা কাটায় জড়িত। তারা প্রকাশ্যে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন আরো জানায়, একসময় পশু-পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকত দিনারপুরের পাহাড়ি এলাকা। বিশেষ করে বন্য বানরের জন্য বিখ্যাত ছিল এ এলাকা। তখন এসব দেখার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। পাহাড় কেটে জঙ্গল উজাড় করে ফেলায় এখন আর আগের মতো পশু-পাখি দেখা যায় না।

অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা সিন্ডিকেট করে এসব পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন।

এদিকে, গত বছর দিনারপুরের সকল পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই এলাকার পাহাড় কাটা নিয়ে জারি করা এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১২ জানুয়ারি বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। হাই কোর্টের এই রায়ের পরেও কিভাবে টিলা কাটা হয় এনিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, পাহাড় বা টিলা কাটার বিষয়ে প্রশাসন সব সময় সচেতন রয়েছে। নিয়মিত খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। কায়স্থগ্রামের টিলা কাটার খবর পাওয়ার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি আর কেউ কাটে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি