ফুলবাড়ীতে পান চাষীরা এখন লাখপতি

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের বারাইপাড়া গ্রামের পানের বর(বরোজ) চাষ করে সচ্ছ্বল ভাবে জীবন-জীবিকা নিরবাহ করছেন। সেখানকার পঁচিশটি পরিবার তাদের বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখা ও সচ্ছলভাবে জীবন-যাপনের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পঁচিশটি পানের বর(বরোজ) চাষী তাদের পান বিক্রি করে সচ্ছল ভাবে সংসার চালাছেন। পানের বরেই তাদের একমাত্র ভরসা। তারা প্রতিদিনেই বরের পান বিক্রি করে সংসারসহ বিভিন্ন চাহিদা মিঠান। পাশাপাশি ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার পিছনেও খরচ করছেন। পান চাষী পরিবারগুলো এখন জীবন যুদ্ধে জয়ী । সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার একমাত্র বারাইপাড়া পানের বর নামে খ্যাত । ওই এলাকায় বর-চাষীদের ছেলে-মেয়েরাও পানের বরের মধ্যে পানের গাছে পরিচর্চা ও পান তুলতে প্রতিদিনেই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। স্থানীয়রা জানান আগে এই এলাকায় প্রত্যেকটি পরিবার পানের বর(বরোজ) চাষ করতো। তাই এই এলাকার নাম করণ হয়েছে বারাইপাড়া।

পান চাষী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ও তার মেয়ে পল্লবী রানী জানান,তারা মাত্র পঁচিশ শতক জমিতে পানের বর দিয়েছেন। তাদের পানের বরটির বয়স মাত্র তিন-থেকে চার বছর হয়েছে। বর্তমানে তারা পান ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী ১০০ পান ভালটা (বড়) ১৬০ থেকে ছোটটা ৭০ টাকা বিক্রি করছেন। প্রফুল্ল আর জানান, এবারের বন্যায় কিছুটা ক্ষতি হলেও বর্তমানে বরের অবস্থা ভালই এবং ফলনও ভালই হয়েছে। আমরা প্রতিদিনেই ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে পান বিক্রি করে থাকি। তবে পান চাষে পরিশ্রম অনেক সে তুলনায় লাভ অনেক বেশি। পানের বর দিয়ে আমদের সংসার ও দুই ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজের পড়াশুনাসহ সব কিছুই চাহিদা মেটছে। একটি পানের বর প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত থাকে ।

নিতাই চন্দ্র রায় ও পরিমল চন্দ্র রায় জানান,তারা দুই জনেই ৪০ শতক জমিতে পানের বর দিয়েছে। তারা আপন দুই ভাই । বাবা পাঁচ বছর আগেই মারা যান। বাবা-দাদার পেশা ধরে রাখতে দুই ভাইয়ের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। জীবন-যুদ্ধে তারা লড়াকু সৈনিক হিসাবে পরিচিত। সব সময় দুই ভাই পানের বরে পরিচর্চায় ব্যস্ত । কেউ পান গাছ থেকে তুলছেন এবং অন্য জন পানের পরিচর্চা করছেন।

এ ছাড়াও প্রায় দিনেই দুই-তিন জন করে দিনমজুরও পানের বরে কাজ করছে। এই ভাবেই তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তারা আরও জানান আমাদের পানের বরের বয়স ১১ বছর হয়েছে। আশা করছি আর তিন-চার বছর থাকবে। পানের বর দিয়ে দুই ভাইয়ের সংসার ভালই চলছে। বর্তমানে পানের দামও ভাল । বড় ১০০ পানের দাম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। ছোট পানের ১০০ দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতি বছরে গড়ে পানের বর থেকে ১ লাখ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। এই এলাকায় আমরা সহ প্রায় পঁচিশটি পরিবার পানের বরের মাধ্যমে তারাও এখন আমাদের মতই স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান,কৃষি বিভাগের মাধ্যমে উপজেলার রাবাইটারী ও রাম রাম এলাকায় কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী পানের বরোজ চাষ করেছেন। এ উপজেলায় আড়াই হেক্টর জমিতে কৃষকরা পানের বরোজ চাষ করেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে পান চাষীদের মাঝে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রাখছেন। পানের বরোজ একটি লাভজনক ফসল।

এক বিঘা পানের বরোজ খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বর্তমানে পানের দাম খুবেই ভাল। তাই অন্য বছরের চেয়ে এ বছর এক বিঘা পানের বরোজ থেকে ১ লাখ ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা কৃষকদের আয় হবে। তবে বন্যা ও তীব্র শীতে পানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে এবং পানের পাতার সাইজও কিছুটা ছোট। তবে সব কিছু মিলিয়ে পান চাষীরা অনেকটা লাভের মুখ দেখবেন। তেমনি কৃষকদের মুখের হাসিটুকুও ফুঠবে। কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় আগামীতে এ অঞ্চলে পানের বরোজ দিনদিন বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস।

সময়ের কণ্ঠস্বর/ফয়সাল