৪৮ ঘণ্টা না পেরুতেই নিজের পেশাদারিত্ব নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের কাছে প্রশ্ন ছুড়লেন গাভাস্কর

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- নিদাহাস ট্রফির গ্রুপ পর্বের বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার শেষ ম্যাচের পর মাঠের বাইরেও খেলার রেশ গড়ায়। এ নিয়ে কম নাটক হয়নি। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই দলের বাদানুবাদ।

ডাগ আউটে থাকা টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের আচরণ। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের ভাংচুর। ভারত ও শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কটূক্তি। এসব কিছু ছাপিয়ে আলোচনার তুঙ্গে ছিল সুনীল গাভাস্কারের সমালোচনা। সাকিবদের কঠোর শাস্তির দেবার পক্ষে তিনি কথা বলেছিলেন।

গেলো শুক্রবারের ওই ম্যাচে নো বল ইস্যুতে বিশ্বসেরা অধিনায়ক আম্পায়ারের দেয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলকে মাঠ থেকে বের হয়ে আসতে বলেছিলেন। ডাগ আউটে সেসময় অধিনায়কের পাশেই ছিলেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। তার হস্তক্ষেপে ফের ম্যাচ শুরু হয়। এতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অদম্য ব্যাটিংয়ে জয় পায় দল।

ভারতীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেশটির কিংবদন্তি দাবি করেন, সাকিবের শাস্তি হওয়া উচিত আর ম্যাচ শেষে নাগিন নাচ নাচায় টাইগার ক্রিকেটারদের সমালোচনা করেন তিনি। যদিও ১৯৮১ সালে সুনিল গাভাস্কার নিজেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে গিয়ে ম্যাচ বয়কট করেছিলেন।

আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওই ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই নিজের পেশাদারিত্ব নিয়ে নিজেই ক্রিকেট বিশ্বের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন সুনীল গাভাস্কর। বাংলাদেশিদের জয় উদযাপনের প্রতীক সেই নাগিন ড্যান্স দিলেন কমেন্ট্রি বক্সে বসেই। কিন্তু সেটা এমন এক জায়গা দিয়েছেন, যা নিয়ে তার পেশাদারিত্বের প্রশ্ন তোলা শুরু করেছে ক্রিকেট বিশ্ব।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইংরেজিতে ধারাভাষ্যকারদের নিরপেক্ষ থাকতে হয়। শুধু কমেন্ট্রি নয়, তাদের আচরণও হতে হয় নিরপেক্ষ। গাভাস্কারের মত লিজেন্ড এই আইন জানবেন না সেটা হতেই পারে না। তিনি কী তবে জেনে শুনেই আইন ভাঙলেন? নাকি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি? তবে তিনি যে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি সেটা অনুমান করাই যায়।

কারণ, রোহিত শর্মার ব্যাটে তখন সহজ জয়ের পথে ছিল ভারত। এ সময় গ্যালারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সমর্থকেরা নাগিন নেচে বাংলাদেশকে বিদ্রূপ করছিলেন। ওই সময়ে ধারাভাষ্য কক্ষে ছিলেন গাভাস্কার। হঠাৎ করেই উঠে দাঁড়ালেন এবং কোমর দুলিয়ে দু-তিনবার নাগিন নেচেও দেখালেন সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক’ যা দেখে পাশে থাকা ব্রেট লি ও আমির সোহেলও অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন।

একটি পক্ষ মনে করছেন, টাইগারদের ব্যঙ্গ করেই ড্যান্সটা দিয়েছেন গাভাস্কর। কারণ হিসেবে তাদের দাবি, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে উত্তেজনার মুহূর্তে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের প্রতিবাদী রূপের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে ক্রিকেটপ্রেমীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সুনীল গাভাস্কার। সে কারণে ওই সময় ভারতের অবস্থা সুবিধাজনক দেখে তিনি আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ব্যঙ্গ করেই নাগিন ড্যান্সে মেতে উঠেন। কিন্তু তিনি যে উদ্দেশ্যেই দিক, তার জায়গা থেকে সেটা করা কি আদৌ উচিত ছিল? যে গাভাস্কর ৪৮ ঘণ্টা আগে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার জন্য টাইগারদের সমালোচনা করলেন, তিনি কীভাবে একটা দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিলেন, এই প্রশ্ন এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে মুখে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি