প্রেমিকার শরীরে এলোপাতাড়ি ছুরি চালালো প্রেমিক

সময়ের কণ্ঠস্বর- বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের ফাঁদ পেতে রাতের আঁধারে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নিয়ে গিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রেমিক। প্রেমিকার শরীরে চালানো হয়েছে এলোপাতাড়ি ছুরি। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে কুতুবদিয়া

বায়ুবিদ্যুৎ এলাকায়। প্রিয়া মল্লিক (২৫) নামে ওই প্রেমিকা বর্তমানে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তিনি চকরিয়া উপজেলার হারবাং স্টেশন মল্লিক পাড়ার সাধন মল্লিকের মেয়ে বলে জানা গেছে।

প্রিয়া’র সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই বছর পূর্বে তার সাথে বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের ফাঁদ তৈরি করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মৌলভী বাজার এলাকার মোহাম্মদ হাছান (৩৫)। এসময় প্রিয়া মল্লিক চট্টগ্রামের বহদ্দার হাট এলাকায় পিকো ফ্যাশন গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিকের কাজ করতো। অন্যদিকে হাছান কাজ করতো বহদ্দারহাটের একটি রেস্টুরেন্টে। সেখান থেকেই শুরু দুই জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। প্রিয়া হিন্দু ধর্মের হলেও হাছানকে বিশ্বাস করে সব কিছু বিলিয়ে দেন বিয়ের আশায়।

এরমধ্যে হাছান প্রিয়ার সাথে শারীরিক সর্ম্পক গড়ে তোলে ও তার মাসিক বেতন আত্মসাতও করে। সম্পর্কের মাঝামাঝি সময়ে প্রিয়া বিয়ের জন্য হাছানকে অনুরোধ করলে হাছান প্রিয়াকে ধর্মান্তারিত হওয়ার কথা বলে। এতেও রাজি ছিল প্রিয়া।

এদিকে প্রিয়ার মানসিক অবস্থা উপলব্দি করতে পেরে হাছান গোপনে চট্টগ্রাম ছেড়ে বাঁশখালী চলে যান এবং প্রিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আত্মগোপনে থাকে।
গত ১৬ মার্চ হাছানকে খুঁজতে বাশঁখালীর মৌলভী বাজার এলাকায় আসলে হাছানের সাথে দেখা হয় প্রিয়ার। এখানে এসে প্রিয়া জানতে পারে হাছান দুই সন্তানের জনক। এখবরে প্রিয়া ভেঙে পড়েন। তারপরও হাছানকে ছাড়তে নারাজ ছিল সে।

প্রিয়ার কথায় জানা যায়, তাকে (প্রিয়াকে) ধোঁকা দেওয়ার কোনো উপায় না দেখে হাছান ফঁন্দি করতে থাকে। পরের দিন (গত শনিবার) কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবালের চর এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে প্রিয়াকে নিয়ে চলে যান কুতুবদিয়ায়। হাছানের সাথে ছিল আরো দুই বন্ধু।

রাত ১০টার দিকে তাবালেরচর এলাকায় যাওয়ার কথা বলে প্রিয়াকে নিয়ে যান বায়ুবিদ্যুৎ এলাকায়। জনমানব শূন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রিয়া’র উপর আক্রমণ করে তারা। উপর্যুপরি ছুরি আঘাত করা হয় প্রিয়ার শরীরে। এক পর্যায়ে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে হাছান। এরিমধ্যে প্রিয়ার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান হাসানের দুই বন্ধু। এরপর প্রিয়াকে ক্ষত অবস্থায় পেলে হাসানও পালিয়ে যান।

এদিকে রাত ১১ টার দিকে মুমূর্ষ অবস্থায় প্রিয়াকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কবি জসীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্র বিষয়টি এলাকাবাসীকে অবগত করেন। এরপর পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

এবিষয়ে কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রিয়াকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছি। তার মাথা ও মুখেসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে। নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে হত্যা চেষ্টা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রিয়ার বরাত দিয়ে ওসি বলেন, মেয়ের বাড়ি চকরিয়া আর ছেলের বাড়ি বাঁশখালী। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে প্রিয়া জানতে পারছে হাসান বিবাহিত। তারপরও তারা কুতুবদিয়ায় আসে। হাসানের সাথে আরো দুজন বন্ধু ছিল।

প্রিয়াকে আক্রমনের পর তারা পালিয়ে গেছে। ঘটনা শুনে গতকাল রবিবার সকালে কুতুবদিয়া আসেন প্রিয়া মল্লিকের পিতা সাধন মল্লিক। তারা খুবই গবীর মানুষ। পুলিশের খরচে প্রিয়াকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে শঙ্কামুক্ত। এখনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। হয়ত দ্রুত সময়ে অভিযোগ দায়ের করা হবে। পুলিশ এবিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিবে বলে তিনি জানান।