সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বাগেরহাট-৩ এর নির্বাচিত এমপি

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা-

সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাগেরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় তালুকদার আবদুল খালেক।

আজ মঙ্গলবার তিনি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুীর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। এর ফলে তার আসন শূন্য ঘোষণা করেছেন স্পিকার। জাতীয় সংসদ চলাকালীন সময় তিনি ওই আসন শূন্য সংক্রান্ত ঘোষণা পাঠ করেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মনোনীত হওয়ায় এমপি পদ ছাড়তে হয়েছে তালুকদার আবদুল খালেককে।
এর আগে সোমবার সংসদের সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। এসময় তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

তালুকদার খালেক বলেন, আমি এই সংসদে ১৯৯১, ৯৬ এবং ২০০১ নির্বাচনে জয়ী হই। এরপর ২০১৪ সালে বাগেরহাট-৩ থেকে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছি। আমি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনে মেয়র হিসেবে জয় লাভ করি। তবে ২০১৩ সালে জয় লাভ করতে পারিনি। পরবর্তিতে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই’।

গত রোববার প্রকাশিত সংবাদ

খুলনা আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে কোন্দল নেই। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি ও বিভক্তি আছে। চলছে নানা গুঞ্জনও।খুলনা আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে কোনো কোন্দল না থাকলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ‘ছোট ছোট’ দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতা-কর্মীরা। দলীয় মেয়র প্রার্থী এখনো ঠিক না হওয়ায় এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। বিশেষ করে সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক আর প্রার্থী হবেন না বলে ঘোষণা দেওয়ার পর।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিকে মোকাবেলায় তালুকদার আবদুল খালেককে রাজি করাতে চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।

আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠেয় খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেককে ‘উইনিং’ প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ এগিয়ে রাখলেও স্থানীয় কোন্দলপূর্ণ রাজনীতি তাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে নিরুৎসাহিত করছে। খুলনার রাজনীতি কোন্দলে জর্জরিত। উপরন্তু মোংলা-রামপাল আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হবে। এসব বিবেচনায় সিটি মেয়র হিসেবে নির্বাচন করতে নারাজ তালুকদার খালেক।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সিটিতে তাকে নির্বাচন করার নির্দেশ দিলে প্রার্থী হতে আপত্তি নেই তার।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক শনিবার (৭ এপ্রিল) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, মোংলা-রামপাল আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে হবে। পরে সিটি নির্বাচনেও যদি হারতে হয়! জেতার নিশ্চয়তা কে দেবে? এমন নানা আশঙ্কা থেকে তালুকদার খালেক মেয়র প্রার্থী হতে নারাজ।

খুলনা সিটি নির্বাচন, প্রার্থী হওয়া না হওয়া এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় তালুকদার আব্দুল খালেকের সঙ্গেও। শনিবার দুপুরে তার মোবাইল ফোনে।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ আমার নেই। তবে দলীয় সভাপতি ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা যদি আমাকে নির্দেশ দেন আমি প্রার্থী হবো।’ তিনি বলেন, ‘আমি একটি সংসদীয় আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। সংসদ নেতার হুকুম ছাড়া দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা নিয়মবহির্ভূত বিদায় আমি ফরম সংগ্রহ করিনি। আমাকে মনোনয়ন ফরম কিনতে হলে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংসদ নেতার নির্দেশ প্রয়োজন হয়। সেই নির্দেশ আমি পাইনি বলেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করনি।’

২০১৩ সালের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাকে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করা হয়নি কেন? তাহলে তো আমাকে সংসদ নির্বাচন করতে হতো না।’ তিনি বলেন, ‘আবার দাঁড়ালে সিটি নির্বাচনে জিতবো, এই গ্যাটান্টি কে দেবে? তিনি বলেন, আমি কারো ‘চালের গুটি’ হতে চাই না ‘ও খেলার ফুটবল হতে পারি না। তাছাড়া, আমার মোংলা-রামপাল সংসদীয় আসনের কী হবে?’

আপনি ছাড়া যোগ্য প্রার্থী কে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তারা সবাই যোগ্য। দল ক্ষমতায় আছে, বিভেদ ভুলে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দল যার হাতে নৌকা তুলে দেবেন, সেই প্রার্থী অবশ্যই বিজয়ী হবে।’

গত নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক অর্ধ লক্ষাধিক ভোটে বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কাছে হেরে যান। জেলা ও নগরের অন্তত ৭০ জন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খালেকের পরাজয়ের কারণ ছিল কোন্দল। নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ছিল।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘আমরা নাম সুপারিশ করেছি, এখন দল যাকে মনোনয়ন দিবে তাকে বিজয়ী করতে আমরা কাজ করব।’

অবশ্য আওয়ামী লীগ যে ১০টি নাম পাঠিয়েছে, এদের মধ্য থেকেই যে প্রার্থী বাছাই করা হবে এমনটি নয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নের জন্য যাদের নাম সুপারিশ করা হয় তাদের মধ্যে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ছিল না। কিন্তু পরে তাকেই মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।

Leave a Reply