'গুলিস্তানে নেয়ার পর গামছা কিনে চোখ বাঁধা হয়'

সময়ের কণ্ঠস্বর- কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী তিন শিক্ষার্থীকে চোখ বেঁধে ডিবি কার্যালয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। 

সোমবার ডিবি কার্যালয় থেকে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তারা।

বিকাল ৪ টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি কার্যালয় থেকে ফিরে আসা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, গুলিস্তানে নেয়ার পর গামছা কিনে চোখ বাঁধা হয়। মাথায় হেলমেট পড়ানো হয় আমাদের। এরপর ডিবি অফিসে নেয়া হয়।

নুরুল হক নুরের সঙ্গে ছাড়া পাওয়া অপর দুই নেতা হচ্ছেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান ও ফারুক আহমদ। তারাও এসময় বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সোমবার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর চানখারপুল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূর, রাশেদ খান ও ফারুক হাসানকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। যা মুহূর্তেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। 

পরে দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারী তিন শিক্ষার্থীকে ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, তিন জনকে তুলে নেওয়া হয়নি। তাদের আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল।

এদিকে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘তাদের কিছু তথ্য সহযোগিতার জন্য আনা হয়েছিল। তারা চলে গেছে। তাদের কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। 

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ‘সহিংসতার’ ঘটনায় যেসব তথ্য উপাত্ত পুলিশ পেয়েছে, সেগুলো যাচাই বাছাই করার জন্যই ওই তিনজনকে তারা ‘নিয়ে’ গিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক নুর বলেন, ডিবি পুলিশ বলেছে, তোমাদের উপর হামলার আশঙ্কা ছিল। সেজন্য নিয়ে আসা হয়েছে। একটা ভিডিও দেখানোর কথা বলেন তারা যদিও কোনো ভিডিও দেখানো হয়নি। ছেড়ে দেয়ার সময় বলা হয়. ডাকলে আবার যেতে হবে ডিবি অফিসে।

নুর দাবি করে বলেন, ‘এটি একটি অপহরণ। মিডিয়া না জানলে হয়তো ফিরে আসতাম কিনা সন্দেহ।’

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাসান বলেন, নিরাপত্তা ইস্যু থাকতেই পারে। সরকার ডাকলেই কিন্তু যেতাম। বলে কয়ে নিয়ে গেলে তো আমরা পালাতাম না। অবশ্যই যেতাম। এভাবে না নিয়ে গেলেই পারতো। ডিবি কার্যালয়ে পানি খেতে চাইলে দেয়া হয়নি। নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও নিরাপত্তা দাবি করছি।

এর আগে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের এক সংবাদ সম্মেলনে তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক ইত্তেফাক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা এবং উপাচার্য ভবনে হামলার ঘটনায় মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলন শেষে পরিষদের নেতারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের দেখার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল রওনা হলে চানখারপুলের কাছাকাছি পৌঁছালে মাইক্রোবাসে আসা অস্ত্রধারী কয়েকজন লোক আন্দোলনকারী তিন শিক্ষার্থীকে তুলে নেয় বলে অভিযোগ উঠে।

আরআই