৩৬ ঘন্টা পার হলেও পশুর নদীতে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজের উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি

কামরুজ্জামান জসিম, মোংলা প্রতিনিধি: পশুর নদীর হাড়বাড়িয়া এলাকার কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও এখনো উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি।

Loading ...

গত রবিবার ভোর ৩টার দিকে হারবাড়িয়া এলাকায় ৭শ ৭৫ মেঃ টন কয়লা নিয়ে এমভি বিলাস নামে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়। এ জাহাজ ডুবিতে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আমদানিকারকরা পরিবেশের ক্ষতির শঙ্কার নেই বলে মনে করেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের পশুর নদের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শাহীন কবিরকে জাহাজ ডুবির কারণ ও কয়লায় পরিবেশের কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ডুবে যাওয়া কয়লা বোঝাই ওই কার্গো জাহাজ এমভি বিলাস এর নামে মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা কামরুল হাসান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বাগেরহাট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) মোঃ এমদাদুল হক জানান, ডুবে যাওয়া জাহাজে থাকা কয়লার নমুনা সংগ্রহের জন্য আমাদের একটি টিম ঘটনা স্থলে পৌঁছেছে। তবে জাহাজ ১০-১২ ফুট পানির নিচে থাকায় নমুনা সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার মোঃ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবির পর তাতে থাকা কয়লা যাতে পশুর নদীতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাই পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা খুবই কম। বন্দর চ্যানেল স্বাভাবিক রয়েছে। এতে বন্দরে জাহাজ আগমন নির্গমনে কোনো বাধার সৃষ্টি হচ্ছে না। ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজটিকে তুলতে আমদানিকারকদের বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মোঃ লালন হাওলাদার বলেন, এই লাইটার জাহাজে যে কয়লা রয়েছে তা কোথাও ভেসে যায়নি। কয়লা লাইটার জাহাজের ভেতরেই রয়েছে। এতে পরিবেশের কোন ক্ষতির আশংকাও নেই। আমরা ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ‘কয়লার ক্ষতি প্রাথমিকভাবে চোখে ধরা না পড়লেও এসব কয়লার সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন প্রভৃতি সুন্দরবনের পানি, জীব ও বায়ু মন্ডলকে দূষিত করবে। আর ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস সুন্দরবনের শ্বাস মূল উদ্ভিদ ও মাছের প্রজননের ক্ষতি করবে, যা ধীরে ধীরে মাছের বংশ ধ্বংস করবে।

এর আগে সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকায় ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি ১ হাজার মেঃ টন কয়লা বোঝাই লাইটারেজ জাহাজ এমভি আইচ গাতি ডুবে যায়। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ শ্যালা নদীর ধানসাগর এলাকায় ১ হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যায় কার্গো জাহাজ এমভি জাবালে নূর। ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর ৫১০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে পশুর নদীর চিলা এলাকায় খাদ্য গুদামের (সাইলো) কাছে ডুবে যায় কার্গো জাহাজ এমভি জিয়া রাজ। একই বছর পশুর নদীর হারবারিয়া এলাকায় সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল জিপসাম নিয়ে ডুবে গিয়েছিল এমভি সি হর্স। বড় বিপর্যয় ঘটে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর। এ দিনে চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে তেলবাহী কার্গো ডুবির ঘটনা ঘটে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/এফপিএম