৭হাজার টাকার জন্য দুই নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে ভণ্ড ফকির!

মহিবুল্লাহ্ আকাশ,সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় রোগীর কাছ থেকে নেয়া মাত্র ৭ হাজার টাকা ফেরত না দিতে একাই দুই নারীকে খুন করেছে জন্য মোকলেছ নামে এক ভণ্ড ফকির। হত্যাকান্ডের শিকার ওই দুই নারীর নাম, নার্গীস আক্তার (৪০) ও তার সাথে থাকা ময়না বেগম (৫৫)। গত ৯ এপ্রিল সন্ধায় নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওন চক এলাকার একটি পুকুর পাড়ে তাদের খুন করা হয়। খুনের ৪দিন পর ১৩ এপ্রিল সেই পুকুর থেকে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ খুনীকে আটক করতে সক্ষম হয়। খুনী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

মামলার তদন্ত অফিসার নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান জানান, উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের ইমান আলীর স্ত্রী নার্গীস আক্তার (৪০)। দীর্ঘ দিন থেকে দাম্পত্য কলহের কারণে সংসারে সুখ ছিল না তাদের। তাই স্বামীর মন জয় করতে কুসংস্কারের পেছনে ছোটেন নার্গিস। তিনি অবাধ্য স্বামীকে বাধ্য (বস) করতে পাশের চরদরি কান্দা গ্রামের ভন্ড তান্ত্রিক আব্দুস সোবহানের ছেলে মো.কাউছার উদ্দিন ফকিরের কাছে যান। কিন্তু নার্গিসের কাজ করতে না পেরে কাউছার তাকে জানায়, এই কাজ উপজেলার মাতাপপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মোকলেছ ফকির নামে একজন করতে পারবে।

পরে নার্গিসকে কাউছার মোকলেছের কাছে নিয়ে যায়। নার্গিসের স্বামীকে বশ করতে মকলেছ ৭ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় মোকলেছের কাছে নার্গিস টাকা ফেরত চায়। মোকলেছ টাকা ফেরত দিতে অপরাগতা জানায়। এসময় নার্গীস থানায় জানানোর হুমকি দেয়।

হুমকি পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে মোকলেছ। পরবর্তীতে নার্গিসের নাম্বারে ফোন করে ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় মোকলেছ টাকা ফেরত দেয়ার কথা জানায়। টাকা নিতে মোকলেছের দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওনা চক এলাকার একটি পুকুর পাড়ে যায় নার্গিস। সাথে ময়না বেগম নামে এক প্রতিবেশীকেও নিয়ে যায়। এরপর মোকলেছ প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে নার্গিসকে হত্যা করে। এবং পরে ময়নাকে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে মরদেহ দুটির সাথে ভারি বস্তু বেঁধে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।

১৩ এপ্রিল ওই পুকুর পাড়ের পাশের এক মহিলা পুকুরে পানি আসতে গিয়ে মরদেহ দু’টো ভাসতে দেখে এলাকাবাসীকে জানালে পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে।

এরপর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নার্গিস আক্তারের ফোন কলের লিস্টের সূত্র ধরে নার্গিসের নাম্বারে সব শেষ কল আসা মোকলেছকে শনাক্ত করে এবং ১৫ এপ্রিল সকালে উঠিয়ে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে মোকলেছ হত্যার কথা শিকার করে। এবং তাকে ওই পুকুরের পাশে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে নার্গিস ও ময়নার কাপড় সহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। ১৬ এপ্রিল সিনিয়র ডিভিশন ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর রহমানের আদালতে মোকলেছের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এসআই কামরুল আরো জানায়, মোকলেছের সহযোগী কাউছার উদ্দিনকেও আটক করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, ৯ মার্চ সন্ধ্যার পর থেকে নার্গিসের কোন খবর না পেয়ে গত ১০ মার্চ রাতে নার্গিসের ছেলে তানভীর আহম্মেদ এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন।

সময়ের কণ্ঠস্বর/মহিআ

Leave a Reply