SOMOYERKONTHOSOR

রোজায় ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে, দাবী ব্যবসায়ীদের

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- ‘আসন্ন রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে কিনা’ এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবারের রমজানে প্রধান বেশ কয়েকটি ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়বেনা বলে সরকারের বানিজ্য মন্ত্রনালয়কে আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রোজার প্রধান পণ্যগুলোর যথেষ্ট মজুদ আছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

রোজার নিত্য প্রয়োজনীয় প্রধান বেশ কয়েকটি উপকরণের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে বলে দাবি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে প্রচুর সরবরাহও রয়েছে। দু’মাসের ব্যবধানে ছোলাসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে বলে বিক্রেতাদের ভাষ্য। কয়েকমাস আগে যেখানে ৮৫ টাকা কেজিতে ছোলা বিক্রি হলেও এখন তা মিলছে ৭০ টাকায়।

উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাজারে এখন পেঁয়াজের দামও কম। দেশি পেঁয়াজের দাম এখন কেজিপ্রতি ৩২ থেকে ৩৩ টাকা। ৯৭ থেকে ১০৩ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। প্রকারভেদে মসুর ডালের দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। তবে ১০০ টাকা কেজিতেও ভালো মানের মসুর ডাল মিলছে। আর বেগুনের দাম এখন কেজিতে ৪০ টাকা।

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে যাদের ঘর সামলাতে হয়, কিংবা খোঁজ নিতে হয় রান্নাঘরের-তারাও সকাল সকাল ছুটে গিয়েছিলেন বাজারে। কেনাকাটা করেছেন রোজার নিত্য প্রয়োজনীয় উপকরণ। কেউ কেউ এখন থেকেই কিনে রাখছেন পেঁয়াজ। শবে বরাতের জন্যও কেনাকাটা করছেন অনেকে।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি মার্কেটে কথা বলে জানা গেছে, দেশে এবার পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ভারত থেকেও পেঁয়াজ আসছে। ফলে বাজারে এখন পেয়াজের দাম কম। ৩২ থেকে ৩৩ টাকায় দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ২৩ থেকে ২৪ টাকা। পাইকারি বাজারের বড় বিক্রেতা খলিলুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘রোজায় এবার পেঁয়াজের দাম বাড়বে না। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা পাল্লায় (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা ফারিহা বেগম নামে একজন ক্রেতা জানান, ‘কম মনে হলেও পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত কয়েকদিন ১৩০ টাকা পাল্লায় পেঁয়াজ কিনতে পারলেও আজ কিনতে হয়েছে ১৫০ টাকায়।’ জানালেন, রোজার চাহিদা অনুযায়ী তিনি পেঁয়াজ কিনে রাখলেন। ৭০ টাকা কেজিতে এখন ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে। ডাবলি মটর ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ভালো মানের মশুরের ডাল গড়ে ১০০ টাকা কেজি।’

আল্লাহর দান স্টোরের এক কর্মচারী জানান, মাস দুয়েক আগে ছোলা ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে যা ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, ছোলার দাম আর বাড়বে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই বাজারের সয়াবিন তেলের এক বড় কারবারী বলেন, ‘৯৭ থেকে ১০৩ টাকা কেজিতে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। শবে বরাতে হয়তো ১ থেকে ২ টাকা দাম বাড়তে পারে। রোজা আসলে পরে ওই দাম কমিয়েই বলা হবে দাম কমানো হয়েছে। বিগত এক মাসেও তেলের বাজারে কোন পরিবর্তন হয়নি। কোন কিছুর দামই কিন্তু বাড়েনি। সরকার ও বড় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- সব কিছুরই পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তাই বাজারও স্থিতিশীল।’

এছাড়া, চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট ৫২ থেকে ৬১ টাকা, নাজির ৬৪ থেকে ৭২ টাকা ও কাটারিভোগ ৭২ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কমেছে সবজির দাম। সিম ৩০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, কাকরুল ১২০ টাকা ও কাঁচা আম ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমেছে অন্যান্য সবজিরও।

তবে একদিনের ব্যবধানেই বাজারে রসুনের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা। মিরপুর কাঁচা বাজারের পিঁয়াজ-রসুনের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘গতকাল ৭৪ টাকা কেজিতে চায়না রসুন বিক্রি করলেও আজ তা ৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। দুদিনের ব্যবধানেই ৬ টাকা দাম বেড়েছে। তবে দেশি রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। চায়না রসুন শুক্রবার ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও শনিবারে তা ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হবে। তবে দেশি রসুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ লাখ ৬৯ হাজার টন ভোজ্য তেল, ১৩ লাখ ৭ হাজার টন চিনি, ১ লাখ ৩০ হাজার টন মসুর ডাল, ৪ লাখ ২৭ হাজার টন পেঁয়াজ ও ২ লাখ ৪৭ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে। এ অবস্থায় রমজানে বাজারের উপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে সেজন্য একসাথে সারা মাসের বাজার না করে ভাগে ভাগে কেনার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

সময়ের কণ্ঠস্বর/আরআই