পাকিস্তানে ভ্রমণে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন শিখ নারী কিরণ বালা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বৈশাখ উপলক্ষে গত ১৩ এপ্রিল শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের জন্ম স্থান পাকিস্তানের লাহোরের পাঞ্জা সাহেব গুরুদুয়ারা এবং নানকানা সাহেবের গুরুদুয়ারা পরিদর্শন করার জন্য প্রায় ১৭০০ ভারতীয় শিখ পাকিস্তানে গিয়েছেন।

সেখানে ছিলেন তিন সন্তানের জননী বিধবা কিরণ বালা (৩১)। যিনি পাকিস্তানে শিখদের তীর্থস্থান পরিদর্শনে গিয়ে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে লাহোরের একজন যুবককে বিয়ে করেছেন।

এর আগে কিরণ বালার স্বামী ২০১৩ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তারপর থেকে চাঁদগাছার প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাবের সাব-ডিভিশনের গৌরশঙ্কর গ্রামে সন্তানদের নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন কিরণ বালা।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের রিপোর্ট বলা হয়েছে, ইসলামে ধর্মান্তরিত ওই নারীর নাম কিরন বালা। তার বাবার নাম মনোহর লাল। ১৬ এপ্রিল তারিখে লাহোরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ইসলাম গ্রহণের পর মোহাম্মদ আজমকে বিয়ে করেন।

খবরে বলা হয়, ভারতে ফিরতে হত্যার হুমকি থাকায় কিরন বালা তার ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেছেন। ভারতীয় পাসপোর্টে কিরন বালা পাকিস্তান যান। তার ভিসার মেয়াদ ২১ এপ্রিল তারিখে শেষ হবে।

কিরণের দাদা তারসেম সিং বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, তার নাতনি পাকিস্তানি ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এর হাতে পড়ে থাকতে পারে এবং সেখানে তাকে জোর করে ইসলামে ধর্মান্তরিত করে পুনর্বিবাহে বাধ্য করতে পারে।

টারসেম সিং এএনআই’কে বলেন, ‘আমার নাতনি আমাকে ফোন দিয়েছিল এবং বলেছে যে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং পাকিস্তানে পুনরায় বিয়ে করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনার জন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি। আমি সন্দেহ করছি যে সে হয়তো আইএসআইয়ের হাতে পড়ে থাকতে পারেন।’

পাকিস্তানি মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল তারিখে লাহোরের দারুল আলম জামিয়া নামেয়া থেকে কিরন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পরে লাহোরের হানজারওয়াল মোলতান রোডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, তিনি তার নাম পরিবর্তন করে আমনা বিবি রেখেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির সাক্ষরে তিনি এই নাম ব্যবহার করেছেন বলে রির্পোটে বলা হয়।

স্থানীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত ওই চিঠিতে কিরন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নিম্নে সাক্ষরকারী ব্যক্তি ভারতে ফিরে যেতে পারছে না এবং কারণ ইতোমধ্যে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। অতএব, নিম্ন স্বাক্ষরকারী তার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করছে।’

সময়ের কণ্ঠস্বর/আরআই

Leave a Reply