SOMOYERKONTHOSOR

কাজ চায় সেই ‘পাগলী মা’ সালমা, স্বজনের কাছে ফিরতে চায় পারুলী

শামছুজ্জামান বাবুল, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি- ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সৈয়দগাঁও গ্রামে জরিনার আশ্রয়ে রয়েছে সালমা ও পারুল নামে দু’জন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। তিনি পারুলকে দেখাশুনা করেন প্রায় দেড় বছর এবং সালমাকে দেড়মাস ধরে।

মিডিয়াতে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা চোখ রাখেন, বিষয়টি হয়তো অনেকেরই জানা। গত ২২ ফেব্রুয়ারী মাদারীপুর শিব চররের একটি মাঠে মানসিক ভারসম্যহীন এক নারী একটি সন্তান জন্ম দিয়েছিল। পরবর্তীতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিঃসন্তান এক দম্পতি সন্তানটি লালন পালনের জন্য নিয়ে যায়। শিবচর থানায় সাধারণ ডায়রী করে অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে সালমাকে নিজ বাসায় নিয়ে আসেন যমুনা ব্যাংকের ফাস্ট এসিস্টেন্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট শামীম আহাম্মদ। যিনি মানসিক রোগীদের সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলাকে সামাজিক দায়বদ্ধতা মনে করেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন সালমাকে দুই দিন রাখেন নিজ বাসায়। ওনাকে সহযোগীতা করেন ওনার স্ত্রী শিক্ষিকা আফরিন জাহান ও দুই সন্তান। পরে ভর্তি করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউড ও হাসপাতালে। এক মাস চিকিৎসা করার পর সুস্থ হয়ে ওঠে সালমা। এরপর ব্যাংকার শামীম আহম্মদ খুঁজে বের করেন, ব্রাম্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর গ্রামে সালমার পরিবার।

জানা যায়, সালমার বিয়ে হয়ে ছিল, ছিল একটি মেয়ে সন্তান। সুস্থ হয়ে জানতে পারে স্বামী আরেকটি সংসার করেছে। মেয়েটিও বেঁচে নেই। পিতা মাতাও গত হয়েছে। দুই ভাইকে খুজে বের করেছেন ব্যাংকার শামীম আহাম্মদ। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই দূর্বল থাকায় বোন হিসেবে সালমাকে স্বীকার করলেও দায়ীত্ব নিতে রাজী হয়নি। ব্যাংকার শামীম আহম্মদ সালমাকে দেখাশুনার দায়ীত্বে নিয়োগ দেন নান্দাইল উপজেলার সৈয়দগাঁও গ্রামের জরিনা বেগমকে। খরচ বহন করেন শামীম আহম্মদ ও তার বন্ধুরা।

পারুল আক্তার পারুলীকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পেয়েছিলেন মানিকগঞ্জের ঘিউর উপজেলার একটি বাসস্ট্যান্ড থেকে। ভর্তি করেন ঢাকার মানসিক হাসপাতালে, তিনিও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন পারুলী। তার বলা ঠিকানা মোতাবেক শামীম আহম্মদ ও তার এক বন্ধু সাংবাদিক আবেদুর আর শাহীন বরগুনা মঠবাড়িয়া এলাকায় পারুলীর পরিবারকে অনেক খোঁজাখুজির পরও না পেয়ে তাকেও দেখাশুনার দায়িত্ব দেন জরিনা বেগমকে। বর্তমানে জরিনা বেগমের ছেলে মমিনউদ্দিনের সংসারে পারুল এবং সালমা রয়েছেন। তাকেও ব্যাংকার শামীম আহম্মেদ একটি নির্দিষ্ট বেতন পরিশোধ করেন।

মমিনউদ্দিন স্থানীয় ভূমি আফিসের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী। তিনি জানান, মা শামীম স্যারের পাশে থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাগলীদের এনে সেবা যত্ন করেন। তাদের পরিবার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকেন। আমি গরিব মানুষ, সরকারি অনুদানে আমার ঘরটি নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্য মনে করে পাগলিদের সেবা যত্ন করি। পারুল এখনও পুরো সুস্থ হয়নি। তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চায়, পরিচয় পেলে শামীম স্যার তাদের হাতে তুলে দিবেন।

জরিনা বেগম বলেন, পরতম যহন শুরু করছিলাম একটু ঘিন্না লাগত, এহন অব্বাস হইয়া গেছে, শামীম সাব কিছু টেহা দেয় এইগুলো দিয়া কোনুমতে সংসার চালাই।

সালমা আক্তার বলেন, আমার তো কেউ নাই। স্যার আমারে যেখানে রাখতো চায় আমি সেখানেই থাকবো। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকার শামীম আহম্মদ তার নতুন জীবনের সুচনা করেছেন। তবে তার উপর এতটা বোঝা না হয়ে কাজ করে বেঁচে থাকতে চায় সালমা।

জানা যায়, অসহায় মানুষপ্রেমী এই শামীম আহম্মদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকেন। তিনি একজন ব্যাংকার, উনার দুটি মেয়ে রয়েছে, একজন ২য় শ্রেণী অন্যজন ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। তিনি ২০১৫ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানসিক রোগী এনে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলেন।

তিনি এখন পর্যন্ত ছয়জন নারীকে চিকিৎসা করিয়েছেন। এর মধ্যে চারজন তাদের পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। অর্থসংকটে দু’জনের জন্য কিছু করতে পারছেন না তিনি। প্রতিদিন তাদের ঔষধ প্রয়োজন তাদের সহয়াতায় জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

সময়ের কণ্ঠস্বর/মহিআ