ইবি ছাত্র হুমায়েত আসিফের অভিনব আবিস্কার 'ফায়ার ফাইটিং রোবট'

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হুমায়েত আসিফ 'ফায়ার ফাইটিং রোবট' তৈরী করে গোটা কুষ্টিয়া শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।

যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোন চালক ছাড়াই অাগুন চিহ্নিত করতে পারে এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে পানি প্রবাহের মাধ্যমে অাগুনকে নিভাতে সক্ষম। এই ফায়ার ফাইটিং রোবটের মূলভিত্তি অারডুইনো। অাগুন চিহ্নিত করার জন্য এটাতে ফায়ার সেন্সর বা ফ্লেম সেন্সর মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে।

অামরা জানি, কোথাও যখন অাগুন জ্বলে তখন সেখান থেকে অাই অার (অবলোহিত) রশ্মি নির্গত হয়। অার এই রশ্মিকে ফায়ার সেন্সর রিসিভ করে। সেন্সরগুলিকে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে যেদিকেই অাগুন জ্বলুক না কেনো রোবটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেদিকে ঘুরে যেতে পারে।এরপর রোবটটি অাগুনের অবস্থান নির্ণয় করে প্রয়োজন মতো পানি প্রবাহের মাধ্যমে অাগুন নিভাতে সক্ষম।

হুমায়েত আসিফের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানায়। তার পিতার নাম সাহেব অালী এবং মায়ের নাম অায়েশা খাতুন। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্সের প্রতি তার ঝোঁকটা একটু বেশিই ছিল বলে জানান তার মা।

হুমায়েত আসিফ তার রোবট তৈরির বিষয়ে বলেন,”অাগামী বিশ্ব পুরোপুরিভাবে রোবোটিক্সের উপর নির্ভরশীল হবে।অাগামী বিশ্বের তাল মিলিয়ে চলতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি এমন একটি রোবট যেটি কোন চালক ছাড়াই সমস্ত কাজটি নিজেই সম্পন্ন করে। এটিরই পরবর্তী সংস্করণ হচ্ছে ড্রোন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিত্যনৈমত্তিক। যার ফলে বিপুল প্রাণহানিসহ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমানও উল্লেখ যোগ্য। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ার মূলে দূর্ঘটনা কবলিত এলাকা বা প্রতিষ্ঠানে সময়মত অগ্নিনির্বাপন করতে না পারার বিষয়টিই উল্লেখযোগ্য।

দূর্ঘটনা কবলিত দূর্গম এলাকা; যেখানে অাসলে ফায়ার সার্ভিসিং এর গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব না। যেমন কোন সরু পথ সম্বলিত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, কিংবা উঁচু কোন ভবন। সেখানে এই 'ফায়ার ফাইটিং রোবট' ড্রোনটি কোন চালক ছাড়াই নিজে নিজেই অাগুন চিহ্নিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌছে যাবে এবং প্রয়োজনীয় পরিমান পানি প্রবাহের মাধ্যমে অাগুন নিভাতে সক্ষম হবে”।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পেলে এই আবিষ্কারকে বিশ্বব্যাপী পৌছে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন হুমায়েত আসিফ।

ভিডিও দেখুতে ক্লিক করুন এখানে- 

সময়ের কণ্ঠস্বর/আরআই

Leave a Reply