রাস্তার দুই ধারে ট্রাক থামিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়া: ব্যস্ততম সড়ক কুষ্টিয়া-পাবনার ভেড়ামারা বারমাইল মহাসড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া গামী দুরপাল্লার বাস ও ট্রাক চলাচল করে থাকে।

ভেড়ামারা বারমাইলের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটিতে সর্বদা যানজট লেগেই থাকে। সকাল বিকেল আর সন্ধ্যা নেই, এই রোডে সর্বদা ট্রাকের ভিড় লেগেই থাকে। ট্রাক চালকরা কোন আইন মানে না। ট্রাকের কারণে এ রোডে যানজট লেগেই থাকে। বারমাইলে অনিয়ন্ত্রিত খাবারের হোটেল বানিয়ে রাস্তার দুই ধারে ট্রাক থামিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের বারমাইল নামক স্থানে বেশ কয়টি খাবারের হোটেল রয়েছে। মহাসড়কের পাশের হোটেল গুলোতে ট্রাক ড্রাইভাররা রাস্তার উপর ট্রাক থামিয়ে খেতে যায় অথবা জিকে ক্যানালে গোসল করতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে দেখা যায় হোটেলের কর্মচারীরা ট্রাকের ড্রাইভারদের হাত মেরে ট্রাক থামাতে বাধ্য করে। রাস্তার দুই পাশের ট্রাক থেমে থাকার কারনে প্রায় সময় ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও জানা যায়। এমনকি খালি ট্রাক ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অন্যদিকে ফুটপাত দখল করে যানবাহন রাখার কারণে পথচারীরা স্বাচ্ছন্দে হাঁটতেও পারেন না।

একটি সূত্র জানান, এইসব খাবারের হোটেলে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপও সংঘটিত হয়। এতে করে বিষয়টি যাদের দেখার কথা তারা দেখছে ঠিকই কিন্তু রহস্যজনক কারণে রয়েছে নীরব। মহাসড়কের পাশের জায়গা দখল করে একটি চক্র গড়ে তুলেছে অবৈধ ট্রাক টার্মিনাল। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ পথে বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্ঘটনা। বর্তমানে ভেড়ামারা বারমাইল অঘোষিত ট্রাক টার্মিনালে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হাইওয়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকা কন্টেইনার ও ট্রাকগুলোর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রতিনিয়ত ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরি কভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন-১১১৮ এর সভাপতি মোঃ আলী আকবর বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট ট্রাক টার্মিনাল না থাকার ফলে বারমাইলে গাড়ীগুলো রাস্তার ধারে ধারে রাখা হচ্ছে, কারণ ড্রাইভারদের খাওয়া-দাওয়া, গোসল, বাথরুম ও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। আমাদের নির্দিষ্ট ট্রাক টার্মিনাল থাকলে আমরাতো ওখানে গাড়ী রাখতাম না। কুষ্টিয়াতে নির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল থাকলেও আমাদের জন্য কোন ট্রাক টার্মিনাল নেই। আমরা একাধিকবার জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়ার সাথে দেখা করেও কোন আশানুরুপ ফল পাইনি। আসলে আমরা শ্রমিক তাই আমাদের মানুষ বলে মনে করেননা তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহেল মারুফ বলেন, রাস্তার দুই ধারে ট্রাক থামিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কোন সুযোগ নেই। বারমাইল মহাসড়কটি অত্যান্ত ব্যস্ততম একটি সড়ক। আমি সরজমিনে গিয়ে হোটেল মালিক ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলবো। আগামী সপ্তাহে এ ব্যাপারে একটি মিটিং কল করবো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোঃ জহির রায়হান বলেন, বারমাইলে অনিয়ন্ত্রিত খাবারের হোটেল বানিয়ে রাস্তার দুই ধারে ট্রাক থামিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কখনোও মেনে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমি ইউএনও ভেড়ামারাকে বলে দিচ্ছি।

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই জয়নুল বলেন, রাস্তার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাস্তার ওপরে যত্রতত্র ট্রাক রাখার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। ইতিপূর্বে তিনি বহুবার ওই স্থানে গিয়ে কন্টেইনার ও ট্রাক চালকদের যানবাহন গুলো সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ ও গত চার দিন আগে ২০টি ট্রাক চালকদের নামে প্রসিকিউশন জারি করেন। তিনি বলেন, শীঘ্রই এ ব্যাপারে আবারোও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/এফপিএম

Leave a Reply