SOMOYERKONTHOSOR

ফেসবুকে একটি গান গেয়েই ভাইরাল হওয়া ‘জুনিয়র বাচ্চু’ রাফসান এবং সত্যিকারের প্রতিভা

বিনোদন ডেস্ক- আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’ গানটি এখনো তুমুল জনপ্রিয়। কিন্তু হঠাৎ করেই এবারের নববর্ষে এই গানের নতুন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই তাদের ফেসবুক আইডিতে গানের লিংক শেয়ার করে প্রশংসা করেন শিল্পীর। কেউ কেউ জানতে চান কে এই শিল্পী? গানের ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে সাবলীলভাবে গাইছে ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’ গানটি। তার সঙ্গে গিটার, পারকেশন ও বাঁশি বাজাচ্ছে আরো কয়েকজন তরুণ। বোঝা গেল তারা হয়তো কোনো শৌখিন ব্যান্ড দলের সদস্য। কিন্তু দলটির মূল ভোকাল শিশুটিই নজর কেড়েছে তার গায়কীতে। একটি ফেসবুক পেজ থেকে গানটির ভিউ হয়েছে আট লাখেরও বেশি। এ ছাড়া আরো অনেকগুলো ফেসবুক পেজ থেকে গানের ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাফসানুল ইসলাম নামের সেই শিশুশিল্পীটি ঢাকায় বসবাস করেন না। নেত্রকোনা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সে। গানের চর্চায় যুক্ত মাত্র চার বছর বয়স থেকে। স্কুলের অনুষ্ঠানে গান করার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও গান করে। মূলত ফোক ধাঁচের গান করলেও কিছুদিন ধরেই ব্যান্ডের গানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। নেত্রকোনা শহরের ‘ধোঁয়া’ নামের একটি ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল সে। রাফসানের গান শুনেছেন আইয়ুব বাচ্চুও। রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু গণমাধ্যমের কাছে রাফসানের গায়কীর প্রশংসাও করেছেন। এই ছেলেটি সঠিক যত্ন পেলে অনেক বড় শিল্পী হতে পারবে বলে মনে করেন আইয়ুব বাচ্চু।

এ দিকে গানের বিষয়ে রাফসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে রাফসান বলেন, গানটি ফেসবুকে এভাবে সবাই পছন্দ করবে ভাবিনি। ২০১৭ সালে ‘ধোঁয়া’ ব্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়। আমি ২০১৮ সালের শুরু থেকে এই ব্যান্ডে গান করি। ব্যান্ডের হয়ে প্রথম আইয়ুব বাচ্চু স্যারের ‘সেই তুমি এত অচেনা হলে’ গানটি ভিডিও আকারে প্রকাশ করি। এরপর বৈশাখ উপলক্ষে ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’ গানটি প্রকাশ করার পর প্রচুর সাড়া পেয়েছি। অনেকেই আমাকে ফোন করছেন। টিভি চ্যানেল থেকেও আমাকে ফোন করা হয়েছে। আমার খ্বুই ভালো লাগছে।

গান নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে রাফসান বলেন, আমি ভালো করে গান শিখতে চাই। এখনো আমি নেত্রকোনায় গান শিখছি। আমার গানের উস্তাদসহ সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

এ দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাফসানকে কেউ কেউ ‘জুনিয়র আইয়ুব বাচ্চু’ বলে আখ্যায়িত করছেন। একটি ফেসবুক পেজে লিখা হয়েছে, হিরো আলম, নায়লা নাঈম ভাইরাল হওয়ার চাইতে এই প্রতিভাগুলো ভাইরাল হোক। আরেকটি ফেসবুক পেজে গানটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, আমাদের দেশের কত প্রতিভা যে এভাবে ছড়িয়ে আছে। এদের সরকারি উদ্যোগে সঠিক প্লাটফর্ম করে দিতে পারলে বিশ্ব কাঁপাবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক, শোবিজ তারকাসহ অনেকেই রাফসানের গানের লিংক শেয়ার করেছেন নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে।