রাজধানীর মৌসুমী ফলের বাজারে আগুন

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বাজার গুলোতে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী ফলের বিপুল সমাহার থাকলেও মূল্য সেই আকাশ ছোঁয়া। আর মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার উর্ধ্বে  থাকায় অনকে বিপুল আগ্রহ নিয়ে বাজারে ফল কিনতে গিয়ে ফিরছেন খালি হাতে।

ষড়ঋতুর আবর্তনের শুরুতেই আসে গ্রীষ্মকাল। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এ দুই মাসের গ্রীষ্মকালে দেশের গ্রামাঞ্চলে প্রচন্ড তাপে খাল-বিল, ডোবা, পুকুর শুকিয়ে চৌচির। নদ-নদীর পানি কমে মাঠ-ঘাট খাঁ খাঁ করার পাশাপাশি সবুজ ঘাসের উপর পড়েছে ধুলার আস্তরণ। প্রকৃতি কখনো কখনো টানা তিন চার দিন গুমোট থেকে তার দেখানো কালবৈশাখীর তাণ্ডব-নৃত্যে ভেঙ্গে যায় ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা, লণ্ডভণ্ড হয় সব কিছু।

অন্যদিকে বাংলার প্রকৃতি অকৃপণ  হাতে উপহার দিয়েছে নানা ধরনের ফলফলাদি। ফলে গ্রীষ্মকালের এ দুই মাসকে মধুমাস আখ্যায়িত করা হয়।

মধুমাস জ্যৈষ্ঠ আসতে কয়েকদিন দেরি থাকলেও এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার মৌসুমি ফলে ভরে গেলেও আগাম বাজারে আসা গ্রীষ্মকালীন এসব ফলের দাম আকাশ ছোঁয়া। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

মোহাম্মদপুর বাজারের এক ফলের দোকানে দাম জানতে চাইলে দোকানি মাঝারি আকারের একটি তরমুজের দাম চান ৩৫০ টাকা, একটি কাঁঠাল ৬০০ টাকা। দাম শুনে তরমুজ বা কাঁঠাল কেনার ইচ্ছা শেষ হয়ে গেল।

রাজধানীর কয়েকটি ফলের মার্কেট ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  ফলের বাজারের চিত্র। মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমি ফল বাজারে আসায় ক্রেতাদের বিপুল আগ্রহ থাকার পাশাপাশি দাম শুনে অনেকেই ফল না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ এত আগে বেশি দামে মৌসুমি ফল কিনতে পেরে খুশি। তবে ক্রেতাদের কাছে অন্য ফলের তুলনায় তরমুজের কদর দেখা গেছে অনেক বেশি।

মৌসুমের নতুন ফল তরমুজ দামে বেশি হলেও ত্রেতাদের পছন্দের তালিকায় এ মুহূর্তে শীর্ষে। শখের বশে কিনছেন অনেকেই। কেউবা আবার বাসার ছোট্ট সোনামণির আবদার পূরণে দামের দিকে খেয়াল না করেই বেশি দাম দিয়ে কিনছেন রসালো এ ফলটি। বাজারে নতুন হওয়ায় এর দাম একটু বেশি বলেই স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মৌসুমি ফলের মধ্যে বাজারে উঠেছে আনারস, কাঁঠাল, কাঁচা আম, আতাফল, তরমুজ, বেল, বাঙ্গি প্রভৃতি। আনারস আসছে সিলেট ও পার্বত্য এলাকা থেকে। কাঁঠাল গাজীপুর, নরসিংদী থেকে, তরমুজ সিলেট ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে। যশোর থেকে আসে আতা ফল।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, প্রতি পিস পাকা কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, প্রতি কেজি আতা ফল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, প্রতি পিস বড় বেল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, প্রতি কেজি জাম্বুরা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, প্রতি কেজি পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। অথচ স্বাভাবিক মৌসুমে একই আকারের এসব ফলের দাম কাঁঠাল ১০০-১২০ টাকায়, তরমুজ ৮০-১০০ টাকা, আনারস ১৫-২০ টাকা, আতাফল ৭০-৮০ টাকার (কেজি) বেশি হওয়ার কথা নয়।

দামের এই অবস্থা কেন জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর বাজারের এক দোকানি  বলেন, সাধারণ সিজন আসতে এখনো অনেক দেরি। তাই আগাম এসব ফলের দাম একটু বেশিই হবে। তাই বলে এত দাম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে তাদের কোনো হাত নেই, যারা পাইকারি আনেন তারা আগামের অযুহাতে বেশি দাম নেন। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

একই বাজারের অপর এক দোকানি বলেন, পাইকারি কারবারিরা বেশি দামে মাল ছাড়ে। তাই তাদেরও বেশি বিক্রি করতে হয়। দাম যে বেশি তা তারাও জানেন। তবে করার কিছু থাকে না। এত দামে এসব ফল বিক্রি হয় কিনা বা কারা কেনেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরিবরা এগুলো খেতে পারে না। তাদের আরো মাসখানেক অপেক্ষা করতে হবে। তবে বড় সাহেবরাই এখন এসব দামি ফল কিনছেন।

অন্যান্য ফল বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব ফলের প্রান্তিক পর্যায়ের দাম রাজধানী ঢাকা থেকে অনেক কম। রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি এসব ফলের দাম অনেক ক্ষেত্রে আমদানি করা ফলের চেয়েও বেশি। পরিবহন খরচ, মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য, আড়ৎদারদের কারসাজি ও খুচরা বিক্রেতাদের অতি মুনাফার কারণে কৃষকের কাছ থেকে সস্তায় আনা এসব ফল ঢাকার বাজারে ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

মৌসুমি ফল ছাড়া অন্যান্য ফলের দামও বেশ চড়া। এর মধ্যে আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি, আপেল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, পেয়ারা ১৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, বরই ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ৬০-২০০ টাকা প্রতিটি ও কতবেল ২০ টাকা।

Leave a Reply