'আধিপত্য বিস্তারে দুখুকে গুলিতে হত্যা করেন রহমতুল্লাহ এমপির ভাগ্নে ফারুক'

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড্ডার স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর ভাগ্নে ফারুক এবং বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল।

এর জেরেই গত রবিবার বিকেলে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত হন কামরুজ্জামান দুখু (৩০)। তিনি বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী।

এদিকে এ কে এম রহমত উল্ল্যাহ এমপির নির্দেশেই বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার জানায়, প্রকাশ্য দিবালোকে কামরুজ্জামান দুখুকে গুলি করে হত্যা করে ফারুক আহমেদসহ বেশ কয়েকজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ফারুককে গুলি করতে দেখলেও অভিযুক্তের মামা ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি রহমত উল্ল্যাহ দাবি করেছেন ঘটনার সময় ফারুক সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না।

পুলিশের তৈরি সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত কামরুজ্জামানের শরীরে ৪৮টি গুলির ক্ষত (বুলেট ইনজুরি) পাওয়া গেছে। খুব কাছ থেকে শটগান দিয়ে গুলি করায় ছররা গুলিতে এত বেশি জখমের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাই, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা ইস্যুতে পুরনো দ্বন্দ্বের জের ধরেই গত রোববার বেরাইদে দু'পক্ষের সংঘর্ষে বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এম জাহাঙ্গীর আলমের আপন ভাই কামরুজ্জামান দুখু নিহত হন। এ ঘটনায় আটজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। যারা অ্যাপোলো হাসপাতালো চিকিৎসাধীন।

নিহত কামরুজ্জামান একটি সিমেন্ট কোম্পানিতে কাঁচামাল সরবরাহ করতেন তিনি। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে দু'জন জাহাঙ্গীরের আপন ভাই, একজন চাচা ও একজন ফুফাতো ভাই। বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ  সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর। তার সঙ্গে স্থানীয় এমপি রহমতুল্লাহ ও তার ভাগ্নে ফারুকের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বেরাইদে সংঘর্ষের ঘটনায় লাইসেন্স করা শটগান ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। অস্ত্রধারীদের এখন দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। ফারুক, আইয়ুব ও মহসিন, গোলাগুলির সূত্রপাত করেন বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। তাদের মধ্যে ফারুক ও আইয়ুব এমপি রহমতুল্লাহর আপন ভাগ্নে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সংঘর্ষের সময় দু'পক্ষই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ছিল। পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা গোলাগুলিতে জড়ায়। নিহতের ভাই তাজ মোহাম্মদ দাবি করেন, অস্ত্র হাতে তাদের ওপর গুলি করেছিলেন ফারুক, মনসুর, মহসিন, মশিউর, মমিনুল, আইয়ুব ও জাহাঙ্গীর। তারা কেউ শটগান, কেউ বা রাইফেল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকেন।

বেরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য রহমতুল্লাহর ভাগ্নে ফারুকের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে অতর্কিতে গুলি চালিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’ আরেক ছোট ভাই বেরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় এ্যাপোলো হাসপাতালে রয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এমপি রহমত উল্লাহ তার ভাগিনাকে মহানগর আওয়ামী লীগের পদ দিতে চায়। ছেলে হেদায়েত উল্লাহকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর করতে চায়। আমি যেন বাড্ডা এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করতে না পারি সেজন্য তিনি অপরাজনীতি করছেন। এলাকাবাসী এটা মেনে নেবে না বলে তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজনের উপর গুলি চালিয়েছে।’

এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়েছেন নিহত কামরুজ্জামানের স্ত্রী।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য রহমতুল্লাহ। তিনি বলেন, ঘটনার সময় ফারুক সেখানে উপস্থিতই ছিলো না। বেরাইদে আমার কোনো গ্রুপ নেই। সেখানে আমার গ্রুপ করার প্রয়োজন নেই। আমি সংঘর্ষের কথা শুনেছি। কারা করেছে এখনও আমি জানি না।

তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। কে কী বলল, সে বিষয়ে সেই ভালো বলতে পারবে। এখন কেউ মামলা দিলে দিতে পারে।

এদিকে পুলিশ বলছে বিষয়টি গুরত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধীরা যতোই ক্ষমতাধর হোক আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আশরাফুল করিম।

তিনি বলেন, কামরুজ্জামান হত্যাকান্ডে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে।

Leave a Reply