SOMOYERKONTHOSOR

জামালপুরে শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড় ও বড় আকারের শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধান, আম, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। ভোর পৌনে ৫ টার দিকে শুরু হয় ব্যাপক হারে প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি। এতে করে কাচা পাকা বোরোধান, পাট, কাচা মরিচ, ঢেড়স, পটল, করল্লাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেকের চালের টিনও ফুটো হয়ে গেছে।

আজ বুধবার সকালে সরেজমিনে উপজেলার টুপকারচর, মেরুরচর গ্রামে ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে কৃষকের আহাজারী। শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধান পড়ে গেছে। শীষ দেখা গেলেও ধান নেই। বিভিন্ন সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। গাছের নিচে কাঁচা পাতা ও আম পড়ে স্তুপ হয়ে রয়েছে। শিলাবৃষ্টির ভয়ে অনেক কৃষক আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন। ফলে ক্ষতির সম্মুক্ষিন হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা। কৃষকরা জানিয়েছেন, ধানের শীষে যেসব ধান দেখা যাচ্ছে সেগুলো ধান নয় বেশির ভাগই চিটা।

এ ব্যাপারে বাগাডুবা গ্রামের কৃষক দুলা মিয়া বলেন, আমার বয়সে এমন শিলাবৃষ্টি দেখি নাই। শিলা বৃষ্টিতে অনেক ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে মেরুরচর গ্রামের কৃষক ছামাদ মিয়া বলেন, দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করেছি। ধারদেনা করে ওই জমিতে মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করেছি কিন্তু একদিনেই সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋনের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব না।

এ ব্যাপারে পুরান টুপকারচর গ্রামের কৃষক হাজী সরকার আবদুর রাজ্জাক বলেন, শিলা বৃষ্টিতে যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তাতে করে আগামীতে বোরো ধান চাষাবাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধান চাষীরা বিরাট লোকশানের সম্মুখীন হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল হামিদ বলেন, শিলা বৃষ্টিতে উঠতি ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে এই মুহুর্তে ক্ষতির পরিমান সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। ক্ষতির পরিমান নির্ধারন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।