পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অন্যের ৩২ বছরের দখলীয় জমিতে ঘর তোলার অভিযোগ

২:৫৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৮ দেশের খবর, মফস্বল সংবাদ

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি- পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রায় তিন যুগের আবাদকৃত ১০একর জমিতে হঠাৎ করে দখল তান্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সৈয়দ আব্দুল গণি তার ভাইসহ ওয়ারিশরা। উপজেলার ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মনষাতলীর ১৩৮ নম্বর খতিয়ানের এ জমিতে নামেমাত্র খড়ের ঘর তুলে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের চেষ্টা করে যাচ্ছে দখলদার সুলতান মৃধা গং। আদালতে দ্বারস্থ হয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছেনা এসব মানুষের। সরকার দলীয় এক ক্যাডারের প্রত্যক্ষ মদদে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও মানছে না দখলদার চক্র। এমন দাবী ভুক্তভোগীদের।

জানা গেছে, উপজেলার মনষাতলী মৌজার ১৩৮ নং খতিয়ান থেকে সৈয়দ আবদুল গণি, সৈয়দ আবদুল আজিজ, সৈয়দ আবদুল মোতালেব, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, শহিদ হাওলাদার, দেলোয়ার হাওলাদার, নুর ভানু বেগম, মইয়র বেগম ও শাহিদা বেগম আটটি ভিন্ন ভিন্ন দলিলমূলে মোট ১০ একর নয় শতাংশ ভূমি দীর্ঘ ৩২ বছর ভোগদখলকার মালিক রয়েছেন। কিন্তু একটি চক্রটি ১৩৮ নং খতিয়ানের একটি দাগ অন্তর্ভূক্ত করে ভিন্ন খতিয়ান দেখিয়ে দলিল নিয়ে মালিকানা দাবি করে দখল তান্ডবে নেমেছে।

সৈয়দ আবদুল গনি ওই জমির মালিকানা স্বত্ত্ব ও জাল দলিল বাতিল চেয়ে পটুয়াখালীর যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা ১৪৫/১৮ নং মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত প্রতিপক্ষ সুলতান মৃধা, আজিজ মৃধা, শাহজাহান মৃধা, পান্না ফরাজী ও রিপন মৃধাদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। প্রতিপক্ষরা আদালতের আদেশ নোটিশ পেয়ে তা আমলে না নিয়ে দখল তান্ডবে নামে। আব্দুল গণি গং জানান, মনষাতলী মৌজার এস এ ১৩৮ নং খতিয়ান ও দলিলের থাম বইয়ের নম্বর ঠিক রেখে ৫৭ বছর বয়সী দলিল গ্রহীতা সুলতান মৃধা তার বয়স ৭৫ বছর দেখিয়ে দলিল সৃষ্টি করে। রেজিষ্ট্রী অফিসের বালামে নেই, ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্রে তাদের কোন হদিস নাই। তারপরও থেমে নেই জমি দখল কৌশল।

জানা গেছে, ওই জমির এসএ খতিয়ানের মূল মালিক রাজেন্দ্র লাল ও মনোরমা রায় এর ১৬ আনা অংশ কর্তন করে ১৯৭৩-৭৪ সনের ৩৫৮খে (অংশ-২) মিউটেশন কেস অনুসারে শ্রী নীল কৃষ্ণ, আমজেদ আলী, ফজর আলী, জয়নাল আবেদীনদের নামে রেকর্ড হয়। রেকর্ডীয় মালিক থেকে সাব কবলা দলিল মূলে রেকর্ড পর্চা হাল দাখিলা করে প্রকৃত জমির মালিক প্রাপ্য হন সৈয়দ আবদুল গনিগং। কিন্তু সুলতান মৃধা গং জিহাল কৃষ্ণকে দাতা দেখিয়ে ১৯৬৩ সনের বালাম বিহীন ভুয়া দলিল করে ওই জমির মালিক দাবি করেন। যার কোন অস্তিত্ব নেই বলে সৈয়দ গণি গংদের মÍব্য।

বর্গাচাষী আবুল কালাম জানান, একটি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে হঠাৎ করে ৩২ বছরের দখলীয় জমিতে হানা দিচ্ছে ওই চক্র। এনিয়ে এলাকায় অন্যান্য ভূমি মালিকদের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গায়ের জোরে সব করছে। কোন সালিশ বৈঠকও মানছেনা এ চক্র।

স্থানীয় আবুল হাসেম মৃধা জানান, সুলতান মৃধা তার চেয়ে তিন বছরের ছোট। বর্তমানে তার বয়স ৫৭ বছর। দলিলে কিভাবে ৭৫ বছর হয়? এমন প্রশ্ন অনেকেরই। দীর্ঘ বছর এ জমির মালিক সৈয়দ আবদুল গনি গংদের ভোগ দখল করতে দেখছেন। সুলতান মৃধাদের প্রকৃত দলিল ১৯৬৩ সনের হয়ে থাকলে এতদিন কেন ওই জমির মালিক দাবি করলেন না?

Loading...