‘লাঙ্গলের ভরাডুবিতে প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ এরশাদ! জরুরী বৈঠকে দল থেকে বের করে দিলেন প্রার্থীকে

সময়ের কণ্ঠস্বর, খুলনা- বাংলাদেশের বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী বিরোধীদল জাতীয় পার্টি (জাপা)। সদ্য অনুষ্ঠেয় খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অন্যান্য দলের মত মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছিল জাপাও।

কিন্তু তিনি জামানত তো খুইয়েছেনই, পেয়েছেনও খুব নগণ্য ভোট। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বুধবার রংপুর থেকে ঢাকায় ফিরেই জামানত হারানো সেই প্রার্থীকে দল থেকে বের করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি খুলনা মহানগর জাপার আহ্বায়ক কমিটিও ভেঙে দিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান ওরফে মুশফিক ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র একহাজার ভোট । যা একটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রাপ্ত ভোটেরও কয়েকগুণ কম!

জাপার নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সুত্র জানিয়েছে, খুলনায় লাঙ্গলের প্রাপ্ত ভোট নিয়ে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ এরশাদ গতকাল তার বারিধারার বাসায় জরুরী ভিত্তিতে দলের শীর্ষ কয়েক নেতাকে নিয়ে বৈঠক করেন।

এসময় খুলনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়কেও বৈঠকে ডেকে নেন এরশাদ। বৈঠকে এমন 'লজ্জাস্কর ভোট প্রাপ্তি নিয়ে এরশাদ প্রচণ্ড বিরক্তি প্রকাশ করেন । দলের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে মেয়র পদে একজন 'বিতর্কিত লোককে' প্রার্থী করা এবং নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দলকে ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেয়ার অভিযোগে কয়েকজনকে কড়া ভাষায় সাবধানও করেন এরশাদ।

নির্বাচন কমিশন সুত্রের পরবর্তি তথ্যে সংশোধিত ভোটের হিসাব মতে, আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা) পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১ ভোট; বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ) ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। জাপার এস এস শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) ১ হাজার ৭২; সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে) ৫৩৪ ভোট ও ইসলামী আন্দোলনের মো. মুজাম্মিল হক (হাতপাখা) ১৪ হাজার ৩৬৩ ভোট পেয়েছেন।

খুলনায় মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এ ভোটে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি স্থগিত থাকায় বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৬ হাজারের বেশি ভোটার।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী। নৌকা প্রতীকে তালুকদার আব্দুল খালেককে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন তিনি।

রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া ফলাফলের তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব ফরহাদ হোসেন জানান, মোট ভোটারের মধ্যে মঙ্গলবার ভোট দিয়েছে ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৩৬ জন। সে হিসাবে ভোট পড়ার হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ।

প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট ৩ লাখ ৭১টি; বাতিল ভোট রয়েছে ৬ হাজার ৫৬৫টি। স্থগিত তিনটি কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ৫ হাজার ৮৩১টি।

গত ২০১৩ সালের নির্বাচনে খুলনায় প্রায় ৬৮ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পড়ে। সেবার খুলনায় মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন ভোটারের মধ্যে ৩ লাখ ২ হাজার ৫১৯ জন ভোট দেন।