জামালপুর পৌর এলাকায় ময়লা-আবর্জনার স্তুপ রাস্তায়, দুর্গন্ধে পথ হাঁটা দায়

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি- অসচেতন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের যত্রতত্র ময়লা ফেলার অপচর্চা, ডাস্টবিনের অভাব, ড্রেন পরিষ্কার ও ময়লা অপসারণে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা প্রভৃতি কারণে অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে জামালপুর শহর। ডাস্টবিন না থাকায় বেশির ভাগ মানুষ রাস্তার পাশে ময়লা স্তুপ করে রাখায় ময়লার দুর্গন্ধে পৌর এলাকায় পথ হাঁটা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনকারীদের পরামর্শ, আন্দোলনটি সফল করতে হলে আবর্জনা ও শহর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সর্বসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। পৌর কর্তৃপক্ষকে গতি বাড়াতে হবে তার কাজে।

এদিকে জামালপুর শহরে সম্প্রতি বেড়েছে শিয়ালের আনাগোনা। সন্ধ্যার পর অলিগলিতে দেখা যায় শিয়ালের বিচরণ। সারা রাত শিয়ালের উচ্চ স্বরে ডাকাডাকি বা কান্নাকাটিতে প্রায়ই ঘুম ভেঙে যায় মানুষের। শিশুরাও ভয় পায়।

এছাড়াও জেলা শহরের প্রত্যেক মহল্লার অলিগলি ও প্রধান সড়কে অবাধে ঘুরে বেড়ায় অসংখ্য গবাদি পশু। এসব পশুর মালিককে খুঁজে পাওয়া যায় না। পশুগুলো যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করে প্রতিনিয়ত অপরিচ্ছন্ন করছে শহরের রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ, বাসাবাড়ি ও অফিস প্রাঙ্গণ।

জামালপুর শহর ঘুরে জানা ও দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শহরের অসচেতন ব্যবসায়ীরা দোকান পরিষ্কার করে ময়লা ড্রেনে ফেলেন। অনেক বাসাবাড়ির লোকজনও উচ্ছিষ্ট, ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ও ড্রেনে ফেলেন। এ জন্য ড্রেনগুলোর পানিপ্রবাহ প্রায়ই বন্ধ থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেও শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবর্জনা অপসারণ ও ড্রেন পরিষ্কারে পৌর কর্তৃপক্ষের ধীরগতি ও উদাসীনতায়ও শহর অপরিচ্ছন্ন থাকে। শহরবাসী ও ব্যবসায়ীদের যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিনের স্বল্পতাও দায়ী।

জামালপুরের বিশিষ্ট সমাজকর্মী মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম দুলাল জানান, পরিচ্ছন্ন সবুজ জামালপুর গঠনে শহরবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। শহরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শহরে বন্ধ করতে হবে বেওয়ারিশ গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ।

বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ঢাকা অঞ্চলের পরিদর্শক অসিম মল্লিক জানান, খাদ্য সংকট দেখা দিলে শিয়ালসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। শীতকালে শিয়াল একটু বেশি ডাকাডাকি করে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

জামালপুর জেলা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, বেওয়ারিশ গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ এবং অসচেতন শহরবাসী যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে জামালপুর শহরকে প্রতিনিয়ত অপরিচ্ছন্ন করছে। জেলা প্রশাসনের ‘ক্লিন জামালপুর-গ্রিন জামালপুর’ কর্মসূচিতে শহরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অভাবেও সবুজ জামালপুর গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে শিয়াল কারো ক্ষতি করে না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্য প্রাণী শিয়ালের অবাধ বিচরণ আবশ্যক।

জেলা প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন সবুজ জামালপুর গঠনের জন্য ‘ক্লিন জামালপুর-গ্রিন জামালপুর’ সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে সবুজ জামালপুর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তি ও প্র্রতষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী দিনে যাঁরা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তাঁদেরও পুরস্কৃত করা হবে।

পৌর মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি বলেন, পৌরসভার সব পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। আধুনিক পৌরসভা বিনির্মাণে শহরের ড্রেন ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।