যে কারণে রোজা রেখে খেজুর খাওয়া প্রয়োজন...

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ

সারাদিন রোজা রেখে খেজুর খাওয়া সুন্নত, তাই অনেকেই মানে করেন রোজায় খেজুর খেতেই হবে আর অন্য সময় না খেলেও হবে। অনেকেই আবার খেতে হবে জেনে খাই কিন্তু এই একটি সুন্নতের পেছনেও যে কতো উপকারিতা আছে সে সম্পর্কে হয়তো অনেকেই জানিনা। তাই আজ জানবো আমাদের এই প্রিয় ফল খেজুরের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা। খেজুর শুধু রমজান মাসেই না, সাড়া বছর জুড়েই খাওয়া উচিত।

কলেস্টেরল এবং ফ্যাট:
খেজুরে কোন কলেস্টেরল এবং বাড়তি পরিমাণে চর্বি থাকে না। ফলে আপনি সহজেই খেজুর খাওয়া শুরু করে অন্যান্য ক্ষতিকর ও চর্বি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

প্রোটিন:
প্রোটিন শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। খেজুর প্রোটিন সমৃধ ফলে পেশী গঠন করতে সহায়তা করে এবং শরীরের জন্য খুব অপরিহার্য প্রোটিন সরবরাহ করে।

ভিটামিন:
খেজুরে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন যা শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক। যেমন, B1, B2, B3 এবং B5। এছাড়াও ভিটামিন A1 এবং সি ভিটামিন পাওয়ার আরও একটি সহজ মাধ্যম হচ্ছে খেজুর। খেজুর দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়। সেই সাথে রাত কানা রোগ প্রতিরোধেও খেজুর অত্যন্ত কার্যকর।

আয়রন:
আয়রন মানব দেহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। খেজুর প্রচুর আয়রন রয়েছেও ফলে এটা হৃৎপিন্ডের কার্যমতা বাড়ায়। তাই যাদের দুর্বল হৃৎপিন্ড খেজুর হতে পারে তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ঔষধ।

ক্যালসিয়াম:
ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম। যা হাড়কে মজবুত করে। খেজুর শিশুদের মাড়ী শক্ত করতে সাহায্য করে।

ক্যানসার প্রতিরোধ:
খেজুর পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ন। এক গবেষনায় দেখা যায় খেজুর পেটের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। আর যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের বেলায় ক্যানসারে ঝুকিটাও কম থাকে।

ওজন কমায়:
মাত্র কয়েকটা খেজুর কমিয়ে দেয় ক্ষুধার জ্বালা। এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করে। এই কয়েকটা খেজুরই কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরন করে দেয় ঠিকই।

কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে:
খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টি গুন। যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। এবং কোষ্ঠ কাঠিন্য রোধ করে। কখনো কখনো ডায়রিয়ার জন্যেও এটা অনেক উপকারী।

সংক্রমন:
যকৃতের সংক্রমনে খেজুর উপকারী। এছাড়া গলা ব্যথা, বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি, এবং ঠান্ডায় খেজুর উপকরী। খেজুর অ্যালকোহল জনিত বিষক্রিয়ায় বেশ উপকারী। ভেজানো খেজুর খেলে বিষক্রিয়ায় দ্রুত কাজ করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: নানা ধরনের ভিটামিন থাকায় খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করলে রাতকানা রোগ ভালোও হতে পারে।

রক্ত বাড়ায়: যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছে, তারা নিয়মিত খেজুর খেতে পারে। এই ফল শরীরের রক্তের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ক্ষুধা কমায়: কয়েকটা খেজুর খেলেই আপনি দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষুধা নিবারণ করতে পারেন। এটি পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। আর এই কয়েকটি খেজুর শরীরের শর্করার চাহিদাও পূরণ করবে। ফলে আপনি শর্করাজাতীয় অন্যান্য খাবার না খেলেও খুব একটা সমস্যায় পড়বেন না।

হজমে সহায়ক: ‘বেহিসাবি’ খাওয়া-দাওয়া করলে অনেক সময় বদহজম হয়ে যায়। এই সমস্যা থেকে সহজে মুক্তি দিতে পারে কয়েকটি খেজুর।