দুটি পত্রিকা আমি পড়িও না, গণভবনে ঢুকতেও দিই না: প্রধানমন্ত্রী

সময়ের কণ্ঠস্বর- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আপনারা জানেন, দুটি পত্রিকা আমি পড়িও না, রাখিও না। আমার গণভবনে ঢুকতেও দিই না। দরকার নেই আমার। কাজের মধ্য দিয়েই জনগণই জেনে নেবে। কাজের মাধ্যমেই আমি থাকব। আওয়ামী লীগ থাকলে কী হয় আর না থাকলে কী হয়, তা দেশের মানুষ বোঝে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পত্রিকা দুটির নাম উল্লেখ না করে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা চলে আসছে। খুব কম গণমাধ্যমই আছে যারা সরকারের পজেটিভ বিষয়গুলো নিয়ে সংবাদ করে। নেগেটিভই বেশি। আমরা কারও কাছে দয়া-দাক্ষিণ্য চাই না। এটুকু দাবি করতেই পারি, আমরা যদি ভালো কাজ করি সেটা যেন ভালো করে প্রচার করা হয়। আমার স্বার্থে না, দলের স্বার্থে না, দেশের স্বার্থে এটা করবেন।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে কত পত্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কথা লিখেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম দুর্নীতি প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু পরে তো কোনও দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। এসব মিথ্যা কথা বলা কি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা? যারা এটা বলেছিল তাদের কী করা উচিত আপনারাই বলুন। এখন আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু বানাচ্ছি।’

অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা হওয়া উচিত। সাইবার ক্রাইম নীতিমালা করছি ক্রাইম রোধ করার জন্য। আমি সাংবাদিকদের বলতে চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন উদ্বোধন করতে প্রেস ক্লাবে এসেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রের একটা নীতিমালা অাছে। সাংবাদিকতারও একটা নীতিমালা অাছে।’ এ দুটো মনে রাখলে অামরা অনেক সমস্যা সমাধান করতে পারব।

কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভোট চুরিতে এক্সপার্ট, মানুষ খুনে এক্সপার্ট, দুর্নীতিতে এক্সপার্ট, তারা (বিএনপি) অাবার গণতন্ত্রের কথা বলেন। যারা বলেন পদ্মাসেতু জোড়া তালির সেতু, সাবমেরিন পানিতে ডুবে যায়, স্যাটেলাইট সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছে তারা কিভাবে দেশের উন্নয়ন করবে?

শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটচুরি করে ক্ষমতায় থেকে খুব বড়াই করছিল তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হলো। কিন্তু আন্দোলন সংগ্রাম করেছে জনগণ; তারা তাদের (জনগণ) ভোটচুরি মেনে নেয়নি। যার ফলে তাকে (খালেদা জিয়া) পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল।