ঠাকুরগাঁওয়ে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায়ের আভিযোগে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও কাস্টম একসাইজ ও ভ্যাট সার্কেল অফিস কতৃপক্ষ দোকানপাট থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় ও কয়েকটি দোকানের হিসাবের খাতা জব্দের প্রতিবাদে দোকান পাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

সকাল থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় ও হিসাবের খাতা জব্দের প্রতিবাদে ব্যবসায়ি সমিতির নেতারা কাস্টম একসাইজ ও ভ্যাট সার্কেল অফিসে আলোচনা বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বুধবার শহরের কয়েকটি দোকান থেকে ভ্যাট আদায় কর্মকর্তারা ব্যবসায়িদের হিসাবের খাতা দোকান থেকে জোর পূর্বক জব্দ করে নিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত ভ্যাটের জন্য অফিস কর্মকর্তরা দোকান মালিকদের চাপ সৃষ্টি করে।

এ নিয়ে ব্যবসায়িদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে ব্যবসায়িরা। ওই সময় ভ্যাট কর্মকর্তাদের সাথে ব্যবসায়ি সমিতির নেতৃবৃন্দ ভ্যাট অফিসে এক আলোচনা সভায় বসে। এসময় ব্যবসায়ি নেতারা জব্দকৃত হিসাবের খাতাসমূহ ফেরৎ চাইলে ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

ঠাকুরগাও কাস্টম একসাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের ডেপুটি কমিশনার ফরিদ আল মামুন ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে অশোভন আচরণ করলে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে দোকান মালিকরা। দোকান মালিকরা ওই কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে আধা ঘন্টা মহাসড়ক অবোরধ করে রাখে। পরে বাধ্য হয়ে ভ্যাট অফিসের ডেপুটি কমিশনার ফরিদ আল মামুন জব্দকৃত হিসাবের খাতা সমূহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলুর নিকট ফেরত দেন।

ব্যবসায়ি কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ জানান, আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা সরকারের রাজস্ব খাতে নিয়মিত ভ্যাট প্রদান করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ এই কর্মকর্তা ঠাকুরগাঁওয়ে যোগদানের পরে বিভিন্ন সময়ে ভ্যাট আদায়ের নাম করে দোকান মালিকদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহনের চেষ্টা করে। সর্বশেষ দোকান থেকে জোর করে হিসাবের খাতা জব্দ ও অতিরিক্ত ভ্যাট এর চাপ সৃষ্টি করার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামি। পরে বিকেলে ব্যাবসায়ী নেতাদের অনুরোধে দোকান মালিকরা আবার ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করে।

ঠাকুরগাঁও কাস্টম একসাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের ডেপুটি কমিশনার ফরিদ আল মামুন এর কাছে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে খাতাগুলো জব্দ করা হয়েছিল তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমরা সকল শ্রেণীর দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে ভ্যাট আদায় কার্যক্রম এর সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। অতিরিক্ত ভ্যাট আদায়ের চাপ সৃষ্টির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কথাটি এড়িয়ে যান।