SOMOYERKONTHOSOR

চেয়ারম্যানকে বলার পরও পদক্ষেপ নেই: ‘বিরক্ত’ হয়ে কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে রাস্তা মেরামতে শিশুরা!

রাজু আহমেদ,স্টাফ রিপোর্টার: বেহাল রাস্তায় চলাচলে বিঘ্ন ও জনদূর্ভোগ অসহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় অবশেষে এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে এসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের স্বরূপারচক ও চরমৌকুরী এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কোমলমতি কিশোর-যুবকেরা।
এলাকাটির শতাধিক বাসিন্দা সময়ের কন্ঠস্বরকে অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান, রাজবাড়ীর ছোট ভাকলা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বরূপার চক ও চর মৌকুরী গ্রাম দুটি থেকে গোয়ালন্দ উপজেলা শহর ও খানখানাপুর বাজারের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী এই এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন  দুই সহস্রাধিক জনগন দৈনন্দিন চলাচলের প্রয়োজনে সাইকেল,রিক্সা,অটোরিক্সা,মোটরসাইকেল যোগে যাতায়াত করে। প্রতি বছর বর্ষাকালের আগমনের সাথে সাথেই রাস্তাটির অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ছে।
তবে চলতি বছরে বর্ষাকাল আসার পূর্বেই  গ্রীষ্মকালের সামান্য বৃষ্টিতেই হাটু পর্যন্ত কাদা সৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বহুদিন যাবৎ রাস্তাটির সংস্কার কার্য না হওয়ায় কোনো কোনো স্থানে মাটিও ভেঙে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টপাতেই রাস্তাটি দিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় রিক্সা ও অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উপজেলা শহর ও খানখানাপুরে অবস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যায়নরত  এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না।  পরিতাপের বিষয় হচ্ছে- এমতাবস্থায় রাস্তাটিতে পায়ে হেটে চলাই দূষ্কর হওয়ায় জরুরী প্রয়োজনে কোনো রোগীকেও এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া যায় না।
এই মহাদূর্ভোগ  থেকে পরিত্রান পেতে রাস্তাটি সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে এসে এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-যুবকেরা স্থাপন করল এক বিরল দৃষ্টান্ত।
এপ্রসংগে এই স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে আসা কিশোর-যুবকদের উৎসাহ দাতা ও উদ্যোগ গ্রহনকারী চরমৌকুরী গ্রামের আলতাফ হোসনের ছেলে মতিয়ার রহমান ও একই গ্রামের মামুন খান দাবি করেন, ইতোপূর্বে এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ ছোটভাকলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসনের বরাবর বার বার আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি। চেয়ারম্যান সাহেব বিগত সাত বছরে বহুবার এলাকাবাসীকে রাস্তাটি সংস্কারের আশ্বাস দিলেও ফলাফল রয়েছে শুন্যের কোঠায়। তাই এমতাবস্থায় রাস্তাটির আশু সংস্কারের ব্যবস্থা না হলে এলাকার জনদূর্ভোগের সীমা থাকবে না।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তোরাপ আলী খান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটু সুনজর দিয়ে অনতিবিলম্বে রাস্তাটির সংস্কার সাধন করে করলে অত্র এলাকার জনগনের দূর্দশা লাঘব হবে।
এপ্রসংগে বক্তব্য জানতে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের সাথে বারংবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।