চট্টগ্রামে র‌্যাবের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদকব্যবসায়ী নিহত।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্র বিপুল পরিমান মাদক নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানাধীন কুখ্যাত মাদক স্পট “বরিশাল কলোনীতে” অবস্থান করছে।
উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ মে ২০১৮ ইং তারিখ রাত ১১ ঘটিকার সময় র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করলে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ করে এলোপাথারিভাবে গুলি বর্ষন শুরু করে।
আত্মরক্ষা ও সরকারী জানমাল রক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে ০২ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদ্বয়কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এসময় ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ৩০,৪০০ পিস ইয়াবা, ৪০ বোতল ফেন্সিডিল, ০৬ বোতল বিদেশী মদ, ০৫ ক্যান বিদেশী বিয়ার, ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ০১টি ৭.৬৫ মিঃ মিঃ বিদেশী পিস্তল, ০২টি ওয়ান শুটারগান, ০১টি ম্যাগাজিন, ০৮ রাউন্ড গুলি/কার্তুজ (০২ টি ৭.৬৫ মিঃ মিঃ পিস্তল এবং ০৬ টি ১২ বোর), ০৪ রাউন্ড খালি খোসা ও মাদক বিক্রির নগদ ১৭,৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায় যে, নিহত ব্যক্তিদ্বয় চট্টগ্রামের মাদক সম্রাট ১। হাবিবুর রহমান প্রকাশ ওরফে মোটা হাবিব (৪২), পিতা- মৃত সামশুল আলম প্রকাশ শামশুল প্রকাশ সামছুল, গ্রাম-আঞ্জুরহাট, আলম সওদাগরের বাড়ী, থানা- পটিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে- ৩৪ লাভ লেইন, তিলকা গাডেন এর পিছনে, বুছেকের বাড়ী, থানা- কোতয়ালী, সিএমপি চট্টগ্রাম, ২।  মোঃ মোশাররফ (২২), পিতা-হোসেন মিয়া, বুডিরচং, কুমিল্লা।
উল্লেখ্য যে, মোটা হাবিবের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ১২টির অধিক মাদক মামলা রয়েছে। নগরীর বরিশাল কলোনী মাদক বিক্রির একটি স্পট। স্থানটির দেয়ালের ওপাশে রেলওয়ে স্টেশন। দেয়ালের মাঝখানে ছোট ০২টি ফুটো। যেখান থেকে এ পাশের মাদক ব্যবসায়ীরা অপর প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের টাকার বিনিময়ে মাদক সরবরাহ করতো।
আরো উল্লেখ্য যে, একই স্থানে গত ২০ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখে র‌্যাব-৭ কর্তৃক উদ্ধারকৃত ১৫ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ ১৮ টির অধিক মাদক মামলার প্রধান আসামী চট্টগ্রামের মাদক সম্রাট, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও স্পটটির নিয়ন্ত্রক মোঃ ফারুক হোসেন র‌্যাবের সাথে গুলি বিনিময়ে নিহত হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য ০১ কোটি ৫২ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা। উক্ত ঘটনায় ০৩ জন র‌্যাব সদস্য আহত হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
নিহত ব্যক্তি, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন