বগুড়ায় শ্মশানের জায়গা অবৈধ দখলদারিত্বের ‘ব্যতিক্রমি সাজা’ পেলো আঃ লীগ নেতা!

বগুড়া ব্যুরো, সময়ের কণ্ঠস্বর- হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শতবর্ষী শ্মশানের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চেষ্টার অভিযোগে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হককে ভৎসনা করে ব্যতিক্রমি এক রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে এমন ‘অপরাধের’ জন্য স্থানীয় জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। স্থানীয় জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর এই বিষয়ে আগামী রবিবার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনগণের কাছে ওই অপকর্মের জন্য শ্মশানে ব্যানার লাগিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ব্যানারে লিখতে হবে, ‘শ্মশানের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চেষ্টা করে আমি ভুল করেছি। এ ধরনের কাজ আর কোনো দিন করব না।’

আদেশে আরও বলা হয়, ব্যানার টানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার অনুষ্ঠানে ওই শতবর্ষী শ্মশানের কমিটিকে উপস্থিত রাখতে হবে। ওই ক্ষমা চাওয়ার অনুষ্ঠানের ছবি আগামী রবিবারের মধ্যে হাইকোর্টে উপস্থাপন করতে হবে। একইসঙ্গে আগামী রবিবার দখলচেষ্টা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে লিখিতভাবে নিশঃর্ত ক্ষমা চাইলে বিষয়টি আদালত দেখবে। যদি অস্বীকার করা হয় তাহলে ওই আভিযোগ তদন্ত ছাড়াই আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেওয়া হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ ব্যাপারে আজ রবিবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে স্বশরীরে হাজির হন অভিযুক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক।

সূত্র আরো জানায়, এদিন রিট আবেনকারীরর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অপরদিকে আজিজুল হকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লায়েকুজ্জামান মোল্লা।

শুনানিতে আজিজুলের আইনজীবী লায়েকুজ্জামান বলেন, ওই শ্মশানের জায়গা দখল করার চেষ্টা করেছিল প্রায় দুই বছর আগে। পরবর্তীতে ওই জায়গা স্থানীয় হিন্দুদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে কোনো সমস্যা নেই। এটি একটি ভুল কাজ ছিল।

এদিকে শুনানির সময় উপজেলা সভাপতি পদে এখনও কিভাবে বহাল রয়েছে আজিজুল হক, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালত। এক পর্যায়ে আজিজুলকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে ভৎসনা করেন আদালত। ‘তার ভয়ে স্থানীয় হিন্দুরা দেশ ছাড়বেন’ বলে সংবাপত্রে যে খবর প্রকাশ হয়েছে সেটিও তুলে ধরেন আদালত। এ রকম সাম্প্রদায়িক লোক আওয়ামী লীগের এ রকম পদে থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন আদালত।

শুনানির এক পর্যায়ে আজিজুলের পক্ষে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হলে আদালত বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের তদন্তে ঘটনার সত্যতা উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, শ্মশান দখল করা নিয়ে ২০১৬ সালের ২৬ জুন একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট করে। ওই রিট আবেদনে ওই বছরের ৩১ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মোতাবেক জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ অবস্থায় ২০১৬ সালে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শুরু হয় হাইকোর্টে। এই রুলের ওপর শুনানির সময় গত ১৩মে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে তলব করে আদেশ দেন আদালত।