পেটে মাদক বেঁধে ‘গর্ভবতী’ সেজেও পার পেলেন না দুই নারী!

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ::  কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে দুই কেজি গাঁজাসহ কোহিনুর ওরফে কইতর ও রুমা নামের দুই মাদকবহনকারী নারীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে উপজেলার ডাংমড়কা গার্লস স্কুলের সামনে থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ডাংমড়কা গার্লস স্কুলের সামনে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় কোহিনুর ওরফে কইতর ও রুমা গাঁজা বহনকারীকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের শরীরে বিশেষ কায়দায় বাঁধা ১ কেজি করে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা জানায়, তারা এসব গাঁজা কুষ্টিয়া জেলায় নিয়ে যাচ্ছিল। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে নারী মাদকসেবীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, নারী হওয়ার কারণে আলাদা কিছু সুবিধা পাওয়ায় অপরাধে জড়াচ্ছে তারা। ইচ্ছে করলেই কোনো নারীর দেহে যখন-তখন তল্লাশী চালাতে পারেন না আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কোন সদস্য। মাদকে নারীর সম্পৃক্ততা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ নারীকে মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। নারীর স্পর্শকাতর অঙ্গগুলোতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ইয়াবা বা গাঁজা
পরিবহন করা হয়। ফলে এদের আটক করতে বেশ বেগ পেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এ কারণেই মাদকের মূল হোতাদের প্রধান লক্ষ্য নারী।

তিনি আরও বলেন, সাধারণভাবে দারিদ্র্যের সঙ্গে অপরাধের সম্পৃক্ততা রয়েছে। দেশে নারীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেহেতু নারী এখনও পুরুষের তুলনায় উপার্জনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন, সেজন্য অর্থাৎ টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের সব ধরনের অপরাধে জড়ানো হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে কোন ছাড় নেই উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, এমন অভিযান অব্যহত থাকবে। পিছনের হোতাদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। এজন্য সকলের সহযোগীতাও কামনা করেন তিনি।