সিগারেট পর্যন্ত খাইনি, আমার চরিত্র সম্পর্কে তারাই ভালো জানে: এমপি বদি

রবিউল ইসলাম (রবি), সময়ের কণ্ঠস্বর- কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে অভিযোগ, তিনি ও তার পরিবার মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমনকি ২০১৫ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা টেকনাফের শীর্ষ ৭৯ মানব পাচারকারীর তালিকায়ও তার নাম ছিল এক নম্বরে।

মঙ্গলবার (২২ মে) রাতে বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর টিভিতে ‘একাত্তর জার্নাল’ নামে একটি টক শোতে টেলিফোনে যুক্ত হয়েছিলেন বহুল আলোচিত-সমালোচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এমপি বদি। সেখানে তিনি ও তার পরিবারের কোন সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করে মিডিয়া ও প্রশাসনকে দোষারোপ করেছেন বদি।

তিনি বলেন, আমি কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর একটি বক্তব্য দিয়েছি, বাংলাদেশের কোন মিডিয়া, কোন সাংবাদিক এবং প্রশাসনের কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে কিঞ্চিৎ পরিমাণ মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে সংসদ থেকে পদত্যাগ করব।

এমপি বদি বলেন, মাদকের কোন অতিথিয়তা, মাদকের কিছু কর্মকর্তা, মাদকের সাথে যারা সম্পৃক্ত হয়েছে আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারনেই বিভিন্ন সংস্থা ২০১৫  সালের মাদক ব্যবসায়ীর ওই তালিকায় আমার নাম দিয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তথ্য-প্রমাণ নাই। এমন প্রশ্নে বদি বলেন, আমি সংসদে যেটা চ্যালেঞ্জ করেছি সেখানে বলেছি, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় যদি কেউ বলতে পারে বদি মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলেছেন, কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং কারো সাথে সম্পৃক্ত আছে কোন সংস্থা সেটি বলতে পারলে আমি শাস্তি মাথা পেতে নেব, সংসদ থেকে পদত্যাগ করবো।

দেশে যে কোন সময় মাদক কিংবা ইয়াবা প্রসঙ্গ উঠলে আপনার নাম উচ্চারিত হয় কেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, আমি উখিয়া ও টেকনাফের জনপ্রতিনিধি। আমার এলাকার মানুষ জানে আমি জীবনে কোনদিন একটা সিগারেট খাইনি, গাঁজা খাইনি, মদ খাইনি, পান খাইনি আমার চরিত্র সম্পর্কে তারাই ভালো জানে।

এই সাংসদ আরও বলেন, কিছু মিডিয়াও ইয়াবা ব্যবসা করছে। সাংবাদিকরাও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি তাদের এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি বিধায় বিএনপি-জামায়াত এটা ষড়যন্ত্র করছে।

টেকনাফ-উখিয়া দিয়েই ইয়াবার বড় চালান আসে। এটিই আপনার নির্বাচনী এলাকা? এর জবাবে বদি বলেন, শুধু আমার এলাকা নয়, ধুমধুম থেকে শুরু হয়ে সব এলাকা অরক্ষিত আছে, সেটা নবম সংসদে আমি বক্তব্য দিয়েছি এসব এলাকাতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সংরক্ষিত করার জন্য, এখন সেটি পাশ হয়েছে। এতটুকুই আমি জানি।

আপনার এলাকায় মাদক বিষয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে সাংবাদিকরা মারধরের শিকার হন, আপনি কি জানেন কারা এসব হামলা করে? এ প্রসঙ্গে বদি বলেন, আমি এগুলো সম্পর্কে অবগত, যারা এগুলো করেছে তাদেরকে এলাকা ছাড়া করেছি, খবর নেন। যে সমস্ত লোকগুলো এসব করেছে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করেছি, তাদেরকে বাবা-মাকেও এলাকায় থাকতে দেইনি।

সরকারের মাদকবিরোধী চলমান অভিযানকে কীভাবে দেখছেন? আরেক গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অভিযান ভালো। যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যুব সমাজকে বাঁচানোর জন্য এই ধরনের অভিযান আরও আগে করা উচিত ছিল।’