পাপ ও রোগ প্রতিরোধ করে রোজা

ইসলাম ডেস্ক-ইসলামধর্মের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে সিয়াম বা রোজা অন্যতম। এটি এমন একটি বিশেষ ইবাদত, যা প্রতিপালনের মাধ্যমে রোজাদার পাপকাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকেও নিজেকে রক্ষা করতে পারে। তাই ইসলামধর্মে রোজাকে ‘ঢাল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোজাব্রত পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা পাপ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি তাদের পূর্ববর্তী পাপকেও পুণ্যে রূপান্তর করতে পারে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাস সহকারে ও সাওয়াব লাভের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার আগের সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

রমাজান মাসে মুসলমানরা দিনে সিয়াম ও রাতে কিয়ামের মাধ্যমে শয়তানের সব ধরনের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। কেননা রোজা শুধু সকাল-সন্ধ্যা উপোস থাকার নাম নয়, বরং রোজা হচ্ছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাম-ক্রোধ, হিংসাবিদ্বেষ, মিথ্যা-প্রতারণাসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ কর্ম থেকে বিরত থাকার বিশেষ ব্যবস্থা।

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) রোজার মাধ্যমে সব নিষিদ্ধ কাজ থেকে বাঁচার বাস্তব শিক্ষা প্রদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, বনি আদমের প্রত্যেকটি আমল তার নিজের জন্য, শুধু রোজা ছাড়া। কারণ তা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব। আর রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ; কাজেই তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, সে যেন বাজে কথা না বলে, চেঁচামেচি না করে, যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে তার বলা উচিত, আমি রোজাদার। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর কসম, রোজাদারদের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের চেয়েও সুগন্ধযুক্ত। রোজাদারদের দুটি আনন্দ, যা সে লাভ করবেন একটি হচ্ছে, সে ইফতারের সময় খুশি হয়। আর দ্বিতীয় আনন্দটি সে লাভ করবে, যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তখন সে তার রোজার কারণে আনন্দিত হবে।’

রমজানের বিশেষ একটি তাৎপর্য হচ্ছে, এসময় বান্দা তার জন্য কিছু হালালকৃত বিষয় (যেমন খাদ্য, পানীয়, স্ত্রী সহবাস) থেকে নিজেকে সংযত রাখে, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের সংযত থাকার শিক্ষা দেন এবং বিনিময়ে জান্নাতের পথ সুগম করে দেন। এ সময় আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে আবদ্ধ করে রাখেন এবং জান্নাতের দরজা খুলে দেন। যেভাবে একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন রামাজান মাস আসে, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করে দেওয়া হয়।’ (জামে তিরমিজি)।

রোজাদাররা সিয়াম পালনের মাধ্যমে বিভিন্ন শারীরিক রোগব্যাধি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা রোজার মধ্যে দৈহিক প্রতিরক্ষার যে ব্যবস্থা রেখেছেন, বর্তমানে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান স্বীকার করেছে যে, রোজা পালন করার মাধ্যমে রোজাদারের শরীরে এক বিশেষ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যার মাধ্যমে রোজাদার ডায়াবেটিস, হৃদরোগ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। এভাবে রোজা পালনের মাধ্যমে রোজাদার বিভিন্ন পাপাচার থেকে নিজেকে হেফাজত করার পাশাপাশি শারীরিকভাবেও সুস্থ থাকতে পারে।