কাঁধ-হাতে ৪ কেজি ওজনের ‘টিউমার’: মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে ১৩ বছরের অসহায় শিশু ‘জাকির’!

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি গ্রামের জাকির হোসেন (১৩) নামে এক অসহায় শিশু কাঁধ ও হাতে প্রায় ৪ কেজি ওজনের একটি টিউমার নিয়ে কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছে। ধীরে ধীরে এ টিউমার থেকে সারা শরীরে মরণব্যাধি ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এতে জাকিরের মৃত্যু হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জাকিরের স্বজনেরা জানায়, ছয় ভাই বোনের মধ্যে জাকির হোসেন ৪র্থ। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। অন্য বোনরা অর্থের অভাবে বেশিদূর পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পারেনি। আর জাকির হোসেন বাড়ির পার্শ্ববর্তী কাঠগড়া সাতগিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বাবা আব্দুল মজিদ মিয়া কৃষি কাজ করেন। আর মা কুলসুম বেগম অন্যের বাড়ীতে কাজ করেন।

জাকিরের বাবা আব্দুল মজিদ মিয়া বলেন, দুই বছর আগে জাকিরের ডান কাঁধে একটি ছোট টিউমার দেখা দিলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর টিউমার বড় হতে থাকলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসকের কাছে যাই। তার পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় ও টিউমারের কিছু অংশ কেটে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর রোগের লক্ষণ ভালো নয় বলে জানান চিকিৎসক। তিনি জানান, এই টিউমার শরীরের রক্ত চুষে খাবে ও টিউমার থেকে রক্তের মাধ্যমে ক্যান্সার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, ওই চিকিৎসক কোনো ওষুধ দেননি। এরপর বাড়ি ফিরে স্থানীয় আরেক চিকিৎসকের কাছে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খাওয়ানো হয় জাকিরকে। এতেও ভালো না হলে একমাত্র ছেলে জাকিরকে নিয়ে গেলে বছরের নভেম্বর মাসে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সহকারি অধ্যাপকের (ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ) শরণাপন্ন হই। এই চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিলে টাকার অভাবে সেগুলো করাতে পারিনি। পরে বাড়ি ফিরে আবারো জাকিরকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খাওয়ানো হয়। তাতেও কোনো উপকার হয়নি জাকিরের। আর এরপর থেকে উন্নত চিকিৎসা ছাড়াই দিন কাটছে জাকিরের।

আব্দুল মজিদ মিয়া বলেন, বর্তমানে জাকিরের শরীরের অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সে শুকিয়ে যাচ্ছে। তার খাওয়ায় রুচি নেই। বর্তমানে জাকির টিউমারের কারণে আর স্কুলেও যেতে পারে না। ঠিকমতো হাটতেও পারে না। তার চিকিৎসার জন্য আমি দেশের চিকিৎসক ও বিত্তবান মানুষদের সহযোগিতা চাই।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রানু মিয়া বলেন, আব্দুল মজিদ মিয়া কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। টাকার কারণে জাকিরের টিউমারের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। দিন দিন জাকিরের টিউমারটি বড় হচ্ছে। এখনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জাকির মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে।

জাকির হোসেনের বাবা আব্দুল মজিদ মিয়া একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে দেশের চিকিৎসক ও বিত্তবান মানুষদের সহযোগিতা চেয়েছেন।