টাঙ্গাইলে নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাটি ব্যবসা !

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি  :: টাঙ্গাইলে মাটির ব্যবসার জন্য মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোট বহুরিয়া এলাকায় লৌহজং নদে আড়া-আড়ি দুটি বাঁধ দিয়ে নদের গতিপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এতে, পানি প্রবাহ ও নৌ-যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাধা গ্রস্ত হচ্ছে মাছের অবাধ বিচরণ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোট বহুরিয়া ও গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা এলাকায় ২১ টি ইট ভাটা রয়েছে। ওসব ভাটা সহ আশ-পাশের ইট ভাটায় মাটি নিতে কোট বহুরিয়া এলাকার ফজল ব্রিক্সের পশ্চিম পাশে লৌহজং নদে স্থানীয় ইট ভাটা ও মাটি ব্যবসায়ীরা বাঁধ দেন।

সরেজমিনে, বাঁধের কারণে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে পানি ঠিক মতো প্রবাহিত হতে পারছে না। একটি বাঁধের মাঝখানের কিছু অংশ কেটে দেয়া হয়েছে।

অপর বাঁধের নিচে পাইপ বসানো হয়েছে। বাঁধের কারণে উত্তর পাশে কচুরিপানা জমে আছে। এ ছাড়া উত্তর পাশের চেয়ে দক্ষিণ পাশে পানির উচ্চতা প্রায় তিন ফুট কম।

এ ব্যাপারে ফজল ব্রিক্সের মালিক (ফজল মিয়ার) ছেলে জব্বার হোসেন সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, বাঁধ দিয়ে নদের পশ্চিম পাড় থেকে তাদের ভাটাসহ স্থানীয় ২১ টি ইট ভাটায় মাটি নেয়া হয়।

মাটি আনার সঙ্গে দেওহাটা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই, স্থানীয় শহিদ মিয়া, শওকত আলী, নুরুল ইসলাম, ফরিদ মিয়া ও জুয়েলসহ আরও অনেকে জড়িত আছেন।

যারা স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করেন। এতে ওই এলাকার কৃষি জমি ধ্বংস করে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইট ভাটার শ্রমিক কবির হোসেন বলেন, বাঁধের কারণে একপাশে পানি বেশি রয়েছে। এ জন্য এক পাশে মাছ আটকা পড়ে আছে। নদে যে পানি আছে তাতে নৌকা চলতো। কিন্তু নদে বাঁধ দেয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য স্টাইল ব্রিকস্রে মালিক আব্দুল হাই এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, তিনি ওই বাঁধ দিয়ে ১৫ দিন আগে মাটি আনা বন্ধ করেছেন। এখন শুধু ফজল ব্রিকস্রে মাটি নেয়া হচ্ছে। আর কে-কে মাটি নেন তা আমি জানি না।

তার সঙ্গে স্থানীয় শওকত, নুরুল ইসলাম, ফরিদ মিয়া, রুকন উদ্দিন ও জুয়েল ওই বাঁধ দিয়ে মাটি আনতেন বলে স্বীকার করেন স্টাইল ব্রিকস্রে মালিক আব্দুল হাই। তবে, অন্য কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ দিকে, মাটি ব্যবসায়ী ও এসএমবি ব্রিকস্রে মালিক শহিদ মিয়ার ভাটায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে বার-বার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

এ প্রসঙ্গে মির্জাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইস্রাত সাদমীন সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।