SOMOYERKONTHOSOR

বাঁচতে চায় বিরল রোগে আক্রান্ত কিশোরী ‘নাদিয়া’: নাক-কান-চোখ দিয়ে ঝরছে রক্ত!

Health

স্টাফ রিপোর্টার: বিরল রোগী নাদিয়ার বাবার কান্নায় শান্তনা দেয়ার ভাষা জানা নেই। আগে প্রায় সময় নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতো, তারপর চোখ ও কান দিয়ে রক্ত ঝরে। প্রায়ই সকালে ঘুম থেকে ওঠে চোখ মেলতে পারে না মেয়েটি। চোখে অসহ্য জ্বালাপোড়া করে। বিভিন্ন গ্রাম্য ডাক্তার দেখালেও ডাক্তাররা তাকে রোগের কারন জানাতে পারেননি। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তার পড়াশুনাও বন্ধ। চোখ দিয়ে রক্ত ঝরার মত বিরল রোগে আক্রান্ত ১৬ বছরের কিশোরী নাদিয়া স্বাভাবিক জীবন চায় ফিরে পেতে চায়।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এর রামপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বরকত উল্যাহ মাঝিবাড়ির নাদিয়া আক্তার (১৬) ইমাম উদ্দিনের মেয়ে। সে বামনী আছিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে মুখে ও ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে চোখে হঠাৎ হঠাৎ চোখে-মুখে ও কানে অনবরত রক্ত ঝরে। গত কয়েক দিন আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে বলেন।

কিন্তু বিরল এ রোগের চিকিৎসা কিভাবে করাবে পরামর্শ ও সহায়তার জন্য আসেন উপজেলার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল এর কাছে। তখনই নাদিয়ার বাবা কে ঢাকা মেডিকেল এ ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এরপর মেয়েটি ঢাকা মেডিকেলের ডা. ইউসুফ ফকিরের কাছে গেলে তিনি নাক, কান, গলার ডা. মুক্তি রাণী মন্ডল এর অধীনে চিকিৎসায় দেন। বর্তমানে নাদিয়া ডা. মুক্তি রাণী’র অধীনে মহিলা (৩০৬) নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

নাদিয়ার পিতা ইমাম উদ্দিন মিনতি করে বলেন, আমি গরিব মানুষ। মেয়েটার সুচিকিৎসা না হলে বাঁচানো কঠিন হবে। এ সময় তিনি সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিরল এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় নাদিয়ার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। এখন বাড়ি থেকেই বের হয় না। অজানা এই রোগের চিকিৎসার পেছনে ছুটে দরিদ্র বাবা ইমাম উদ্দিন এখন নিঃস্বপ্রায়। মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

এর আগে বিশ্বে চোখ দিয়ে রক্ত ঝরা রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে খুবই অল্প। গত পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতে দুজন ও যুক্তরাজ্যে একজনের এ ধরনের রোগ ধরা পড়ে।