বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রাণ বাঁচালেন চীনা চিকিৎসক

প্রবাসের কথা ডেস্ক- দক্ষিণ সুদানে নিযুক্ত ৮ম চীনা শান্তিরক্ষী চিকিৎসক দলের সদস্য লিউ লি গত ২২ মে ওয়াউতে দূরপাল্লার টহল মিশনকালে প্রচণ্ড বুকের ব্যথায় আক্রান্ত এক বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করেছেন।

ওয়াউ নগরী থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে জনশূন্য ও বিরান এলাকায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের একটি দল টহল দেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, টহল মিশনকালে বাংলাদেশ দলের সাথে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় চীনা শান্তিরক্ষী দলটির কাছে সহায়তার অনুরোধ আসে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী পদাতিক ব্যাটালিয়নের এক অফিসার টহল মিশনে থাকার সময় হঠাৎ করে বুকে ব্যথা অনুভব করতে করছেন।

খবর শুনে চিকিৎসক দলটি সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ লিউ লিকে বাংলাদেশি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠায়। সেখানে যাওয়ার পথে লিউ লি বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ সরফরাজ হায়দারের কাছ থেকে আক্রান্ত কর্মকর্তার চিকিৎসার ইতিহাস জেনে নেন।

চীনা দলটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অ্যাম্বুলেন্সটি থামামাত্র তা থেকে লাফিয়ে পড়ে লিউ রোগীর কাছে ছুটে যান। বাংলাদেশি কর্মকর্তা তখন আবেগগত উত্তেজনা ও উদ্বিগ্নতায় ভুগছিলেন। তিনি বুকে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানান। তার ঘাম হচ্ছিল, মাঝেমধ্যেই বমি করছিলেন।

লিউ রোগীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানান, তিনি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল অসুস্থতায় ভুগছেন। অ্যান্টি-অ্যাসিড ওষুধ ও অক্সিজেন গ্রহণ করে রোগী সুস্থ হতে থাকেন। এর পর ২৩ মে ভোর ৬টায় চীনা শান্তিরক্ষী চিকিৎসা দলের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে তার আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়। এসবের মধ্যে ছিল ইসিজি, রক্ত, বি-আল্টাসাউন্ড ও এক্স-রে।

পরীক্ষায় ধরা পড়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তা প্রচণ্ড পেটের পীড়ায় ভুগছেন। অ্যন্টি-অ্যাসিড গ্রহণের পর রোগীর অবস্থা দ্রুত ভালো হতে থাকে। তার বুকের ব্যথা ও বমিও কমতে থাকে।

মিশন এলাকায় মোতায়েনের পর এই প্রথম ৮ম চীনা শান্তিরক্ষী চিকিৎসা দলটি দূর এলাকায় জরুরি কোনো উদ্ধার অভিযানে অংশ নিলো।