ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসেই আশার আলো দেখছে কাপাসিয়াবাসী

পলাশ মল্লিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: দীর্ঘ প্রতিক্ষা! তবু আশা ছাড়তে রাজি নয় দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। তার অনুপস্থিতি সর্ব সাধারণের মাঝে একটা শূণ্যতার সৃষ্টি করেছে। যার  বিষয়ে কথা বলছি তিনি হলেন গাজীপুর সাবেক এমপি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

বেশ কয়েকটা বছর হয়ে গেল সোহেল তাজ রাজনীতি থেকে দূরে সরে আছেন। অন্য দশটা পরিবারের সন্তান হলে এতদিনে হয়তো অনেকেই ভুলে যেতেন তাকে। কিন্তু, তিনি তো বঙ্গতাজের ছেলে। তাকে কি করে ভুলে যাবে কাপাসিয়াবাসী। বাবা তাজউদ্দিন আহম্মদের গল্প এখনও কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। এত বছরেও যেখানে বাবার কথাই কেউ ভুলেনি সেখানে নতুন প্রজন্মের আলোচিত নেতা সোহেল তাজকে কি করে ভুলে যাবেন? আর তাই কাপাসিয়াবাসীর আলোচনায় বার বার উঠে আসে এ রাজনৈতিক ব্যক্তিটির কথা। আর সে আলোচনায় নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে সোহেল তাজের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস! আর যার কারণেই নতুন করে আশার আলো দেখছে কাপাসিয়ার মানুষ।

রোববার (১০ জুন) সোহেল তাজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন।

তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের অভিযোগ করে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আওয়ামী লীগের ভেতরে একটি কুচক্রী মহল তাজউদ্দীন পরিবার ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে আওয়ামী রাজনীতি থেকে তাজউদ্দীন পরিবারকে সরিয়ে ফেলতে চায়। এদের প্রভাব দলের ভেতরে ও প্রশাসনের সর্বস্তরে।’

ফেসবুক পোস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদের সাদাকালো একটি ছবি শেয়ার করেছেন সোহেল তাজ। স্ট্যাটাসের শেষ দিকে  কাপাসিয়ার বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আপনারা কাপাসিয়ায় কোনও অপরাজনীতি হতে দেবেন না।’

এর আগে গত ৩১ মে সোহেল তাজ ফেসবুকে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে ভাবছি আমার জন্মভূমি, মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু কী করা যায় এবং বিশেষ করে যুবসমাজের জন্য পজিটিভ কিছু করা যায় কিনা। অনেক চিন্তাভাবনা করে একটা সমাধান পেয়েছি—ঈদের পর জানাবো!’

ফেসবুকে এ স্ট্যাটাস দুটো দেখার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ নতুন করে আশার আলো দেখছেন। সাধারণরা মনে করছেন খুব শীঘ্রই প্রিয় নেতা রাজনীতিতে যোগ দিবেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও বিশ্বাস করেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে তাজউদ্দিনের পরিবারের সর্ম্পক রাজনীতির বাহিরে পারিবার কেন্দ্রিক। বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে তাজউদ্দিন আহম্মেদ নিজের জীবন দিয়ে সে প্রমাণ রেখে গেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস যত চক্রান্তই হোকনা কেন তাজউদ্দিন পরিবারকে বঙ্গবন্ধুর পরিবার থেকে কোনভাবে আলাদা করা যাবে না।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার সোহেল তাজ। পরে হঠাৎ পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর থেকেই অনেকটা নিভৃতে রয়েছেন। তবে মাঝে মধ্যে ফেসবুকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখতে দেখা যায় তাকে। এর আগেও একবার দেশের জন্য কিছু করার কথা লিখেছিলেন তিনি।