‘বুকের ভেতরটা হু হু করছে! প্রকাশ্যে কাঁদা যাবে না প্রতিমন্ত্রী বলে কথা!’

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- সড়ক দুর্ঘটনায় বড় বোনের ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

আজ বুধবার দুপুরে তারানা হালিমের ফেসবুকের ওই লেখাটি প্রকাশ করছে রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষ ঘাতক চালকদের সামনে কতটা অসহায়!

ঈদ আসছে কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই। বরং ঈদ এলে তার পরিবারের সকল সদস্যের বুকে বেদনা বাড়ে! ঈদকে তাঁরা ভয় পায়, ঈদ তাদের কষ্টগুলো তাজা করে দেয়!

তারানা হালিমের সেই স্ট্যাটাসটি সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য হুবহু এখানে তুলে দেওয়া হলো:

“পুরো লেখাটা পড়ুন”- লিখলাম এই জন্য যে আমার আজকের এই পোস্টটিতে মানবতাকে, মানুষকে, আবেগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শের হলেও কোন (কোনো) নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না।

রাজনৈতিক সে যে কোন (যেকোনো) পরিচয়, সে যে কোন (যেকোনো) পদ-পদবীর আগে আমরা মানুষ। আমাদের কষ্ট আছে, আবেগ আছে, ক্ষোভ আছে, দুঃখ আছে; আর সব মানুষের মতই। আজ ভোর থেকেই একটা চিনচিনে কষ্ট, অস্বস্তি! আমি জানি কেন, আমার ছেলেরা জানে কেন, আমার বোন জানে কেন, আমার আল্লাহ জানে কেন!

‘ঈদ’ শব্দটি আমাদের পরিবারের জন্য কষ্টের, বেদনার! যে কোন (যেকোনো) ঈদই! আমার বোনের ছেলেটা মোনাশ ইউনিভার্সিটি পড়তে যাবে কত আনন্দ। ঈদের পরেই সে যাবে মালয়েশিয়া। ঈদের আনন্দে মেতে উঠবো (উঠব) সবাই। কিন্তু কোথায় গেল ঈদ! শুধু চালকের অসর্তকতায় প্রাণ চলে গেল আমার বোনের ছেলে সাইফ আহম্মেদ (অর্ণব) এর!

তিনবার হাত উঁঠিয়ে (উঠিয়ে) ও চালককে থামতে বলেছিল। চালক তার জবানবন্দীতে (জবানবন্দিতে) বলেছে, অর্ণব তিনবার হাত উঠিয়ে কার্ভাড ভ্যানটি থামানোর ইশারা করতেছে, তবে চালক থামালো (থামল) না কেন? সে এই জীবনটিকে মূল্য দিবে না? এই একটি জীবন আমাদের জীবনের সব আনন্দ, হাসি, ঈদের আনন্দ সাথে (সঙ্গে) নিয়ে চলে গেল!

আমরা ঈদ ভয় পাই, ঈদ আমাদের কষ্টগুলো তাজা করে দেয়! আমার বাসায় সেমাই রান্না হয় না! আমি, আমার বোন, আমার ছেলেরা, আমার বোনের ছেলেরা ঈদে নতুন জামা-কাপড় পরি না! আমাকে অর্ণব ডাকতো (ডাকত) ছোট মা বলে, (খালাতো মা-ই তাই মা)।

কত বিতর্ক চালককে ঘাতক বলা যাবে কি যাবে না! এই বিতর্ক কেন? সব চালক কোনদিনই ঘাতক নন। কিন্তু যারা একটু সচেতন হলে একটি জীবন বেঁচে যাবে জেনেও তা করেন না-তাদের কি সেবক চালক বলবো (বলব)? দুঃখিত বলতে পারলাম না। যেমন ঘুষ খেতে পারবো (পারব) না, সন্ত্রাস করতে পারবো না। আমার রক্তে এসব নেই। যেমন সব চালক কে ঘাতক বলতে পারবো না। তেমনি সব চালক কে নিরাপরাধ ও বলতে পারবো না।

জামিনে মুক্ত সেই চালক আজ পরিবার নিয়ে ঈদ করে! আমার বোনের অর্ণব কোথায়? জামিনে মুক্ত সেই চালকের সন্তান নতুন জামা পরে! আমার বোনের অর্ণবের জন্য জামা কিনতে চাই। কোথায় দিলে ও পরবে?

আজ এলাকায় ঈদের শাড়ি বিতরণ করবো, হাসিমুখো জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা সবসময় হাসতে হয়। দু-চারটা কাপড় কম পড়লে মানুষ অসন্তুষ্টও হবে। ওরা কি কখনও জানবে আজ যে মানুষটি হাসিমুখে রোদে পুড়ে কাপড় দিচ্ছে ঈদের জন্য, সেই মানুষটির বড় বোন আজ কাঁদছে! সেই মানুষটির নিজেরও বুকের ভেতরটা কেবলই হু হু করছে! কাঁদা যাবে না প্রকাশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলে কথা! ওদের যে আবেগ থাকতে মানা!