শিমুলিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের স্রোত: যানবাহনের বাড়তি চাপ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

মোঃ রুবেল ইসলাম, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি- পদ্মা পাড়ি দিতে ঘরমুখো মানুষের ঢল এখন শিমুলিয়া ফেরীঘাটের দিকে। বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই এসব ঘরমুখো মানুষেরা ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে।

সকাল থেকেই ফেরীঘাটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীবাহী বাড়তি পরিবহনের চাপ দেখা গেছে ফেরীঘাটে আটকে ছিল শত শত যানবাহন। এ সময় ফেরী কর্তৃপক্ষ এসব বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। তবে আগেভাগেই বন্ধ রাখা হয় পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার।

এদিকে যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়ের কারণে ঢাকা শিমুলিয়া মহাসড়কে পরিবহন সঙ্কটে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় ঘরমুখো যাত্রীদের।এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মিরপুর, গুলিস্তান, পোস্তাগোলা থেকে শিমুলিয়াগামী গণপরিবহনেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়।

যাত্রীদের তুলনায় পরিবহন সঙ্কটের কারণে ঢাকা শিমুলিয়া রুটের সিটিং সার্ভিস ও লোকাল পরিবহনগুলোতে যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়েও শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে আসছিল। এ সুযোগে পরিবহন মালিকরা গুলিস্তান ও পোস্তাগোলা থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত নির্ধারিত বাস ভাড়া ৭০টাকার স্থলে ১০০টাকা আদায় করা হয়। একইসাথে মিরপুর থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত ১০০টাকার স্থলে ২০০টাকা আদায় করা হয় বলে একাধিক যাত্রীরা অভিযোগ করেন ।

এদিকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফেরীঘাট থেকে শিমুলিয়া চৌরাস্তা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা দেওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলগামী ঈদে ঘরমুখো বিপুল সংখ্যক যাত্রীরা ফেরীঘাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এ সময় প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করেই শিমুলিয়া চৌরাস্তা থেকে লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট ও স্পীডবোট ঘাটে পায়ে হেঁটে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা যেতে চরম দুর্ভোগে পড়েন শত শত বাসযাত্রীরা।

এদিকে সকালের দিকে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ও শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে লঞ্চ ঘাটে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়। লঞ্চে আগে ওঠার প্রতিযোগীতায় কিছু কিছু ঘরমুখো যাত্রীরা নিজেরাই অভারলোডিং করছেন। তবে কর্তৃপক্ষের দাবী অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে কিছু কিছু যাত্রীরা কোন বাধাই না মেনে লঞ্চে উঠছেন।

তবে ভোর সকাল থেকেই অভারলোডিং ঠেকাতে বিআইডব্লিউটিএ,নৌপুলিশসহ অন্যান্য মোবাইল টিম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সীবোট কাউন্টারে আর পন্টুনে ছিল উপচে পড়া ভীড়। তবে এসব যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পড়িয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন স্পীডবোট যাত্রীরা, হিম সিম খাচ্ছে।

মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) খন্দকার খালিদ নেওয়াজ জানান, সকালের দিকে ফেরীঘাটে একসাথে অনেক ছোট গাড়ী আসায় এ সময় ফেরী পারাপারে যানবাহনের চাপ বেশী ছিল। তবে বেলা বাড়তে থাকায় যানবাহনের চাপ আরো বাড়তে থাকে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে আনা চারটি ফেরী শিমুলিয়া ফেরী বহরে যোগ হলেও পুনরায় সেখানকার ঘাটগুলো সচল হওয়ায় এ ফেরীগুলো দিয়ে পারাপার হচ্ছে।

শিমুলিয়া নদীবন্দরের (ট্রাফিক) টি আই সোলাইমান জানান, গতকাল পর্যন্ত এ রুটে ৮৭টি লঞ্চের মধ্যে সবগুলোই লঞ্চ চলাচল করছে। গতকালই সকালের দিকে লঞ্চঘাটে যাত্রীচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে সবচেয়ে বেশী দেখা দেওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে কিছু কিছু যাত্রীরা নিজেরাই অভারলোডিং হয়ে লঞ্চে উঠছেন। এতে কিছুটা অভারলোডিং হলেও তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।