‘মালুর বাচ্চারা বেশি খারাপ বলেই হকিস্টিক দিয়ে আমাকে পিটাতে থাকেন’

বগুড়া প্রতিনিধি: মঙ্গলবার রাত ৯ টায় বগুড়ার মোকামতলায় গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও গাড়ি সিগনাল অনুযায়ী থামাতে একটু দেরী করায় হকিস্টিক দিয়ে ড্রাইভারকে বেধড়ক পিটিয়েছে সার্জেন্ট এম এ মুমিন।

বুধবার রাতে গনমাধ্যকর্মীদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই সার্জেন্টের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। মারপিটের শিকার লোকনাথ চন্দ্র নওগাঁ জেলার নজিপুর এলাকার উমেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। সার্জেন্ট মুমিনের বেধড়ক পিটুনিতে ড্রাইভারের হাত ও পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। তিনি বগুড়ার বেসরকারি একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঢাকা-মেট্রো-চ- ১৫-০৩৯৮ মাইক্রোবাসটি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে আসছিল।

আহত ড্রাইভার লোকনাথ অভিযোগ করে বলেন, গাড়ি সাইড করতে একটু বিলম্ব হওয়ায় আমার নাম জানতে চান ওই সার্জেন্ট। আমার নাম লোকনাথ শুনেই তিনি তেঁতিয়ে উঠেন। বলেন, মালুর বাচ্চারা বেশি খারাপ। এই বলেই সার্জেন্ট মুমিনের হাতে থাকা হকিস্টিক দিয়ে আমাকে পিটাতে থাকেন। আমি চিৎকার করে পায়ে ধরে মাফ চাইলেও উনি বলে ওঠেন, হিন্দুর বাচ্চারা বেশি খারাপ। সালা টাকা বের কর, নইলে তোর অবস্থা দেখ কি করি। এসময় গাড়ির কাগজ ঠিক থাকার কথা বললেও উনি বলেন, তোর কাগজ তুই গুলে খা। এসময় আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত সার্জেন্ট ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্থানীয়রা জানান, বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন সার্জেন্ট মুমিন। তিনি প্রায়ই সহজ সরল মানুষদের মারধর করেন। এই সার্জেন্টের অপকর্মের শেষ নেই। চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে সাধারণ মানুষ সহ যানবাহনের চালকদের হয়রানি বন্ধ করতে পুলিশের উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় জনতা।

এপ্রসঙ্গে সার্জেন্ট এম এ মুমিনের সাথে মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।