ভিজিএফ চাল উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপের মারামারিতে আহত ৫

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি :: ফরিদপুরের সালথার সোনাপুর ইউনিয়নে ভিজিএফের কার্ড বিতরণ নিয়ে দু-গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার সোনাপুর বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সোনাপুর ইউনিয়নে ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাবু মোল্যা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাঁতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই জেঁরধরে উভয় গ্রপের সমর্থকরা দেশিয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা, সঁড়কি-ভেলা, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ মোবাশ্বের হাসান ও ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার ও নগরকান্দা-সালথা সার্কেল এফএম মহিউদ্দীনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিমাংশা করে তাৎক্ষণিকভাবে ভিজিএফের চাউল বিতরণ শুরু করেন। এ সংঘর্ষে ইকরাম শেখ (৪০), নয়ন শেখ (২০), মুক্তার মোল্যা (৩৮), জামাল মোল্যা (৪৮), কুদ্দুছ মোল্যা (৫০) আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর সদর হাসপাতাল ও নগরকান্দা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

সোনাপুর ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাবু বলেন, এবার ইউনিয়নে দু:স্থদের জন্য ২১৩৬ টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ এসেছে। বরাদ্দকৃত কার্ড সকল ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কার্ডের চাউল বিতরণ করতে আসলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মোল্যার লোকজন কিছু কার্ড দাবী করে। দিতে অস্বীকার করলে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মোল্যা বলেন, আমার কয়েকশত দু:স্থ-গরীব লোককে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয় নাই। তাই সংঘর্ষ লেগে ছিলো, পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে।

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দেলোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, সংঘর্ষের পরেই উভয় গ্রুপের লোকজনকে নিয়ে ভিজিএফের চাউল বিতরণ করা হয়েছে।