সমুদ্রে যেতে প্রস্তুত ভোলার ৪ লাখ জেলে

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক:আষাঢ় মাস বর্ষা শুরুর মাস। অধিক বৃষ্টিপাতে প্লাবিত হয় দেশ। দেশের নদ, নদী, নালা, খাল, বিল। আষাঢ়ের এই অবিরাম বর্ষায় ইলিশ মাছ ধরার ভরা মৌসুম, তারই পরিপ্রেেিত উপকূলীয় জেলা ভোলায় প্রায় ৪ লাখ জেলে নদী-সাগরে ইলিশ মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জাল বুনন, নৌকা বা ট্রলার মেরামত ও পুরাতন জাল সেলাই করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার জেলেরা। গত বছর প্রচুর ইলিশ জেলের জালে ধরা পড়ায় এবং সমুদ্রে জলদস্যুদের তৎপরতা কম থাকায় এ বছরে ব্যাপক প্রস্তুতি ল্য করা গেছে। জেলার প্রত্যেকটি জেলে পল্লীতে একই দৃশ্য দেখা গেছে।

সরেজমিনে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়ার পাড়ের জেলে পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, ইলিশ মাছ শিকারের প্রস্তুতিতে জেলেদের ব্যস্ততা ছিলো চোখে পড়ার মতো। কেউ নৌকা-ট্রলার মেরামত করছে। কেউ নৌ-যানের নিচের অংশে পুডিং ও আলকাতরা লাগাচ্ছেন। কেউ পুরানো জালকে নতুন করে সেলাই করছে। আবার কেউবা নতুন জাল বুনতে ব্যস্ত। শিশু থেকে শুরু করে কেউ বসে নেই।

মনপুরা উপকুলের জেলে কবির, নেছার, মনির, হানিফ, মিলন, বেল্লালসহ বেশ কয়েকজনে জানান, এখন যারা সাগরে মাছ শিকারে নামছে তারা দু’চারটা বা অল্প সংখ্যক ইলিশ পাচ্ছেন। তবে আর কিছুদিন গেলেই পুরো মৌসুম শুরু হবে। ওই সময় প্রত্যেক জেলে প্রচুর পরিমাণ মাছ শিকার করবেন।

চরফ্যাসন উপজেলার তেতুলিয়া পাড়ের জামাল মাঝি, ইউনুছ মাঝি, জেবল হক মাঝি, ও রহিম উদ্দিন মাঝি বলেন, গত বছর নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় এবার এনজিওর কাছ থেকে প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়েছেন। তারা এ টাকায় নতুন জাল ও ট্রলার মেরামত করছেন। তারা সকলেই আশা করছেন এবার প্রচুর ইলিশ ধরার মাধ্যমে লাভবান হবেন ।

এদিকে ট্রলার মালিকরা বসে নেই, তারাও ব্যাস্ত হয়ে পরেছেন কিভাবে তাদের ট্রলার গভীর সমুদ্রে পাঠানো যায়। ভোলা জেলার চরফ্যাসন, মনপুরা, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলার সবকটি জেলে পল্লীতে এমন প্রস্তুতি দেখা গেছে। অল্প সংখ্যক ইলিশ এখন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। তবে আষাঢ় মাসে ভরা মৌসুম শুরু হবে ইলিশ শিকারের। তখন জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে। তাই পুরোদমে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব জেলেসহ পেশা সংশ্লিষ্ট সবাই।

ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার আহম্মেদপুর ইউনিয়নের ট্রলার মালিক ওবায়জল কোম্পানী জানান, সামনের দিনে ইলিশের ভরা মৌসুম, আর তাই এ মৌসুম ঘিরেই গভীর সমুদ্রে ইলিশ শিকারের জন্য ট্রলার মালিক ও জেলেদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শেষ করতে দেখা গেছে। ইতমধ্যেই প্রায় তাদের সকল পরিকল্পনা শেষ। এখন শুধু জাল ফেলতে সমুদ্রে যাবার আপো। তিনি আশাবাদী এ বছর জেলেদের মুখে হাসি ফুটবে।

ঢালচর ইউনিয়নের মাছের আড়ৎদার মো: রতন মিয়া বলেন, প্রতিবছর ইলিশের মৌসুমে মাছের ঘাটগুলো জমজমাট হয়ে উঠে। তাই সামনের ইলিশের সময়কে রেখে আড়ৎগুলোতে সংস্কারের কাজ চলছে। একইসাথে মাছ রাখার গোলা, সাঝি ইত্যাদীর পরিষ্কার পরিচ্ছনতা করা হচ্ছে।

চরফ্যাসন উপজেলার আহম্মেদপুর ইউনিয়নের বরফকলের মালিক মো: কামাল হোসেন জানান, মূলত ইলিশের সময় উপর ভিত্তি করেই বরফের ব্যবসা চলে। তাই তাদের সামনের ইলিশের মৌসুম ঘিরে বরফ তৈরিরও প্রস্তুতি চলছে। গত বছর জেলায় সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়েছিলো। বরফ তৈরিতে তাদের মহাব্যস্ত থাকতে হয়েছিল তখন। লাভও হয়েছে ভালো।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম জানান, মার্চ ও এপ্রিল ২ মাস অভায়শ্রমে কঠোরভাবে পালিত হয়েছে ইলিশসহ সব ধরেনের মৎস্য রা কার্যক্রম। এছাড়া জাটকা সংরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এ বছর আশা করা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাবে।