তোকমার গুণাগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সকলেই কম-বেশি তোকমার সাথে পরিচিত। ছোট কালো রঙের একটি বীজ তোকমা, যা মূলত বিভিন্ন মিষ্টি পানীয় কিংবা শরবত তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়ও তোকমা বীজ অন্যতম একটি উপাদান। এটি স্থানভেদে সবজা বীজ, মিষ্টি বাসিল, ফালুদা বীজ কিংবা তুর্কমারিয়া বীজ হিসেবে পরিচিত। বহু গুণ রয়েছে বীজটির।

স্বাস্থ্যের জন্য তোকমার নানা গুণাগুণ সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক –

কোষ্টকাঠিন্য দূর করে:

কোষ্টকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকর তোকমা। সামান্য তোকমা অল্প পানিতে ভিজিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর তা দুধে মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে। এটি হজমের সমস্যাও দূর করতে সহায়তা করে।

রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ:

এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সহ উপকারী কোলেস্টেরল উৎপন্ন করে রক্তে চর্বির পরিমাণ কমিয়ে আনে। যা কী না ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, সুস্থ হার্ট এবং হাড় গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

পুষ্টিগুণ:

তোকমার দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে লৌহ, ক্যালসিয়াম, থিয়ামিন, ম্যাংগানিজ, দস্তা, ফসফরাস, ভিটামিন-বি, ফোলেইট এবং রিবোফ্ল্যাভিন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। স্বাস্থ্য গবেষকদের মতে, যারা ডায়েট করার জন্য চেষ্টা করে তারা তাদের ডায়েটে হালকা পরিমাণ তোকমা খেতে পারে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিপাক প্রক্রিয়াও বৃদ্ধি করে থাকে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ:

অনেকেই শরীরের ওজন কমাতে চায়। সে জন্য তোমকা অনেক সহায়ক খাদ্য হিসেবে উপকার করে থাকে। এতে কেবল আঁশই থাকে না। তোকমা শরীরে অনেক শক্তিও সরবরাহ করে। আবার যদি তোকমা দানা বাদাম, শুকনো ফলের সাথে মিশ্রণ করে একমুঠো পরিমাণ খাওয়া যায় তাহলে দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধামুক্ত থাকা যায়। এ জন্য খুব সহজেই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

খনিজ পদার্থ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট:

তোকমা দানায় প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে। এটি শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়াও তোকমা দানায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান প্রদাহ, ক্যানসার কোষ প্রতিরোধ এবং বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে। এক চা কাপ পরিমাণ তোমকা দানায় ৩০ শতাংশ ম্যাংগানিজ, ১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম থাকে। যা শরীরের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ৪৮ শতাংশ পূরণ করে থাকে।

দেহের তাপ কমায়:

তোকমা গরমকালে দেহের তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে। আর এ কারণে গরম আবহাওয়ার দেশগুলোতে বহু মানুষ তোকমার শরবত পান করে। এটি সুস্বাদু করার জন্য চিনি, মধু এবং কোথাও কোথাও নারিকেল দুধ দেওয়া হয়।

এসিডিটি দূর করে:

তোকমা এসিডিটি দূর করতেও কার্যকর। এটি পেটের এসিড নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালাপোড়া দূর করে। এ জন্য পানিতে সামান্য তোকমা বীজ ভিজিয়ে রেখে পান করতে হবে। তোকমার বীজ পানিতে পরিপূর্ণ থাকে, যা দেহের ক্ষতিকর পদার্থও দূর করতে সহায়ক।

ঠাণ্ডার সমস্যায়:

তোকমা বীজে রয়েছে ঠাণ্ডা প্রতিরোধী উপাদান। এটি আপনার দেহকে ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়তে সহায়তা করবে। সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকতে চাইলে তাই নিয়মিত তোকমা খাওয়া যেতে পারে।

সুস্থ ত্বক ও চুল:

ত্বকের নানা সমস্যায় তোকমা ব্যবহার করা যায়। এ জন্য কিছু তোকমা বীজ গুঁড়ো করে তা নারিকেল তেলের সঙ্গে মাখিয়ে ত্বকে লাগাতে হয়। এটি নানা চর্মরোগ নিরাময়ে কাজ করে। এটি একজিমা ও সোরিয়াসিস নিরাময়ে কার্যকর। সুস্থ চুলের জন্য এটি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views
আলোচিত বাংলাদেশ

চকবাজারে ড. কামাল

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :: চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পেছনে মূল কারণ এবং দায়ীদের