হুমায়ূনহীন ৬ বছর

১:১৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৯, ২০১৮ গুণীজন সংবাদ, বিনোদন, স্পট লাইট

বিনোদন ডেস্ক- ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো এক বরষায়…’ না! নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ আর আসবেন না। পাঠক, দর্শক ও ভক্তানুরাগীদের মন কাঁদলেও হুমায়ূনকে তারা আর পাবেন না।

দেখতে দেখতে হুমায়ূনহীন কেটে গেছে ছয় শ্রাবণ। ছয় বর্ষা। ছয় বছর। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই বর্ষার রাতে পরিবার-পরিজন, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের অশ্রুধারায় সিক্ত করে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে এ কলম যাদুকর পাড়ি জমান অজানা ও অদেখা ভুবনে।

১৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম এই জনপ্রিয় লেখক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্রকারের না থাকার ৬ বছর হতে চললো।

২০১২ সালের এই দিনে ক্যান্সার আক্রান্ত চিকিৎসাধীন হুমায়ূন নিউইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু শুধু দেশে নয়, বিশ্বব্যাপী সব বাঙালির হৃদয়ে গভীর শোকের অন্ধকার ছড়িয়ে দেয়।

১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া হুমায়ূন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই লেখালেখি শুরু করেন। লেখা দিয়ে সাহিত্য সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি। নন্দিত নরকে তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। এরপর শঙ্খনীল কারাগার, রজনী, এপিটাফ, পাখি আমার একলা পাখি, ফেরা, নিষাদ, দারুচিনি দ্বীপ, নির্বাসন, অমানুষ, রূপালী দ্বীপ, শুভ্র, দূরে কোথাও, মন্দ্রসপ্তক, বাদশাহ নামদার, সাজঘর, বাসর, নৃপতির মতো পাঠক হৃদয় জয় করা উপন্যাস আসে তার লেখনীতে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘জোৎস্না ও জননীর গল্প’, ‘১৯৭, ‘সূর্যের দিনের মতো’ উপন্যাস। হুমায়ূনসৃষ্ট মিসির আলী ও হিমু হয়ে উঠে পাঠকদের প্রিয় চরিত্র। ‘অনন্ত নক্ষত্র বীথি’, ‘ইরিনা’র মতো কয়েকটি কল্পবিজ্ঞান কাহিনীও লিখেছেন তিনি।

৮০ এর দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘এইসব দিনরাত্রি’ দিয়ে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যান তিনি। এরপর বহুব্রীহি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাতের মতো জনপ্রিয় নাটকও আসে তার হাত দিয়ে। নাটক লেখার এক পর্যায়ে নির্দেশনায়ও নামেন হুমায়ূন। নাটক নির্দেশনায় হাত পাকিয়ে নামেন চলচ্চিত্র পরিচালনায়। আগুনের পরশমনি দিয়ে শুরু করে শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামলছায়ার মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। তার পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ও মানুষের কাছে বেশ প্রশংসা কুড়ায়।

Loading...