ইট ভেঙ্গে এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করে যে স্বামীকে টাকা দিতেন সেই স্বামীই করলো খুন!

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া করেসপন্ডেন্ট :: ইট ভাঙ্গার কাজ করতেন কিরণী বালা (৪৩)। স্বামীর ২য় স্ত্রী ছিলেন তিনি। পাষন্ড স্বামী ছিলেন টাকার পাগল। বিয়ে করেছেন তিনটি। স্বামীর অত্যাচারে এক স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। স্ত্রীর রোজগারে চলেন স্বামী, তাই তৃতীয় স্ত্রী থাকেন অন্যের বাড়িতে। কিরণী বালা থাকতেন স্বামীর সাথে। ই

ইট ভেঙ্গে এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করে স্বামীকে টাকা দিতেন। তবুও পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। অবশেষে পরকীয়া সন্দেহে ২য় স্ত্রী কিরণী বালাকে ঘুমন্ত অবস্থায় ব্লেড দিয়ে পেটে চিড়ে কেটে হত্যা করে পাষন্ড স্বামী সুরেশ। স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করে শনিবার বগুড়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে সুরেশ। জবানবন্দী নেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক শ্যাম সুন্দর রায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ২টার দিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার কালিকাপুর গ্রামে নারী শ্রমিক কিরণী বালাকে ধারালো ব্লেড দিয়ে পেটে আঁচড় কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী সুরেশ দাবি করছিল, গভীর রাতে কে বা কাহারা তার শয়ন ঘরে ঢুকে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছে।

পরে নন্দীগ্রাম থানার ওসি নাসির উদ্দিন হত্যার রহস্য উদঘাটনে নেমে পড়েন। রহস্যের খোঁজে ওসি সহ থানার এসআই এখলাস রহমান, এএসআই শফিকুল, এএসআই আতাউর রহমানের মাত্র ৭ ঘন্টার প্রচেষ্টায় হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়। হত্যার সুষ্পষ্ট প্রমাণ হাতে নিয়ে কিরণী বালার স্বামী সুরেশ প্রামনিককে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় জিজ্ঞাসাবাদের পর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে পাষন্ড স্বামী। স্ত্রীর সাথে অন্য কারো পরকীয়া আছে, এই সন্দেহেই স্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে জানায় সুরেশ। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় নিহত কিরণী বালার ভাই গোকুল চন্দ্র থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামী সুরেশ আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।