পরীক্ষায় অকৃতকার্য অথবা জিপিএ-৫ না পাওয়া মানেই ‘জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়’

সময়ের কণ্ঠস্বর: এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বা জিপিএ-৫ না পাওয়া মানেই জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এসব শিক্ষার্থীরও উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ আছে। হতাশ না হয়ে তাদের নতুন করে জীবন গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। অন্যদিকে অভিভাবকদের আশঙ্কা, এসব শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রতিযোগিতায় হিমশিম খাবেন। ভালো মানের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। কম জিপিএ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। চরম হতাশায় আছেন আরও কম নম্বরধারী শিক্ষার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, কম জিপিএ পাওয়া মানেই জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। জিপিএ-৫ মানেই সেরা হওয়া নয়। এ ধ্যানধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে। এই বৈশ্বিক যুগে কেউ এক শ্রেণিতে কম গ্রেড নিয়ে পেছনে পড়ে থাকা ঠিক না। বিকল্প ভাবতে হবে। সবাইকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়। এর চেয়েও আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক ক্যারিয়ার গঠন করা যেতে পারে। বিশেষ করে কারিগরিতে সেই সুযোগ আছে। এসব সেক্টরের খোঁজখবর নিতে হবে।

বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এমকে বাশার বলেন, এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করা কিংবা বি, সি, ডি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে না। প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ লাখ শিক্ষার্থী এভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। এসব শিক্ষার্থী হতাশায় ভোগে; কেউ কেউ নেশাদ্রব্য গ্রহণসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। আমি মনে করি, উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল কিংবা কম জিপিএ পাওয়া মানেই জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এদের জন্য প্রয়োজন বিশেষ কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা। তাদের ক্ষেত্রে মা-বাবার ইতিবাচক অনুপ্রেরণা থাকতে হবে। সন্তানকে হেয়, কটাক্ষ করা যাবে না। এই বয়সী ছেলেমেয়েদের আত্মসম্মানবোধ বেশি কাজ করে। তাই তাদের উৎসাহ দিতে হবে, ইতিবাচক পরামর্শ দিতে হবে।

সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলে দেখা গেছে, চলতি বছর পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন। বোর্ডগুলোর তথ্যানুযায়ী, সর্বোচ্চ ভালো গ্রেড জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯ হাজার ২৬২ জন, গড়ে মাত্র ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। এরপর ৪ থেকে ৫ জিপিএ পেয়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ২৭০ জন বা ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ জিপিএ নম্বর পেয়েছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৪৩৯ জন বা ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ জিপিএ নম্বর পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ১৫৪ জন বা ১৭ দশমিক ০১ শতাংশ। ২ থেকে ৩ জিপিএ নম্বর পেয়েছেন ২ লাখ ২৩ হাজার ১৭৩ জন বা ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১ থেকে ২ জিপিএ নম্বর পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫০৩ জন বা ১ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ ৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯ জন জিপিএ ৫-এর চেয়ে কম নম্বরধারী শিক্ষার্থী।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter

You May Also Like:

  • Recent Updates
  • Top Views