আর কত..?

রুদ্র রহমান, সময়ের কণ্ঠস্বর :: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রকাশ্যে দুই নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে নির্যাতন করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। গত শুক্রবার সদর ইউনিয়নের চর খোন্দকার গ্রামের জনৈক কামালের দোকান সংলগ্ন সড়কের উপর স্থানীয় ইউপি সদস্য শফি উল্যাহর সামনে ন্যাক্কড়জনক ঘটনাটি ঘটে।

গতকাল রোববার রাতে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছে নির্যাতিত নারীরা। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ঘরে জায়গা না দেওয়ার তাদের উপর এমন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে তারা উল্লেখ করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আসামীরা হলো স্থানীয় মো. সুজন (২৬), মো. ইয়াছিন (৪৫),আবদুল মান্নান (২৮), পারভিন আক্তার (২২) ও রনি (৪০)। নির্যাতনের একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ওই দুই নারীকে দোকানের সামনের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার চেষ্টা করে। নারীদের উপর নির্যাতন এবং ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বেশ কিছু দিন ধরে চর খোন্দকার এলাকার বখাটে সুজন মাদকাসক্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির এক গৃহবধূকে দিনে-রাতে প্রায় সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে গৃহবধূকে সুজন জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের হুমকি দেয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে গৃহবধূ ও তার শাশুড়ি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে সুজন এসে ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। দরজার আওয়াজ শুনে গৃহবধূ ও তার শাশুড়ি ঘুম থেকে উঠে বখাটেকে চলে যেতে বলেন। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে দরজা ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করলে তারা উভয়ে চিৎকার শুরু করলে সুজন পালিয়ে যায়।

পরেরদিন শুক্রবার সকালে গৃহবধূ ও তার শাশুড়ি বিষয়টি বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে সুজনের বিরুদ্ধে বিচার দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য শফি উল্যাহর কাছে যাওয়ার সময় কামালের দোকানের সামনে সড়কের উপর সুজন ও তার শুশুর মো. ইয়াছিন দুই নারীর গতিরোধ করে বেদম পিটিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। স্থানীয় লোকজন তাদের বাঁধন খুলে দেয়। এসময় আশ-পাশের লোকজন নারীদের নির্যাতন ও অবমাননা কর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন। পরে স্থানীয়রা দুই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, দ্রুত আসামীদের আটক করা হবে।