সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দিলেন ইউএনও!

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলাকেটে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই সাংবাদিক।

সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আমাকে প্রকাশ্যে জীবননাশের হুমকি দেয়ার বিষয়টি ২১ জুলাই রাত ১০ টার দিকে বিএম ইশ্রাফিলের কাছ থেকে জানতে পারি। এরপর আমি ইউএনও জিয়াউর রহমানকে রাত ১০ টা ৪৪ মিনিটে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং আমাকে এই বলে হুমকি দেন যে, ‘আপনি তো আমাকে চিনেন না, আমার অফিসে আসেন, আপনাকে দেখিয়ে দিব আমি কে? আমাকে আর ফোন করলে আপনার গলা কেটে ফেলবো। আপনি দুই টাকার সাংবাদিক, আপনি আমার বা.. সাংবাদিক।’

জিডি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, টিআর, কাবিখা, কাবটা ও জিআর প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছেন ইউএনও জিয়াউর রহমান। সম্প্রতি সময়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ‘ভিটা আছে ঘর নেই’ এমন হতদরিদ্র পরিবারদের গৃহনির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৫০০ পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম-নীতি লংঘন করা হচ্ছে এমন তথ্য পেয়ে সাংবাদিক কাজী নজরুলসহ অন্য গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় যান। এ সময় প্রকল্পের প্রত্যক্ষ ভূক্তভোগী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে অনিয়মের অনেক প্রমাণ পান তারা। এতে ইউএনও মো. জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতারও তথ্য পাওয়া যায়।বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনও জিয়াউর রহমান সাংবাদিক কাজী নজরুলের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহকর্মীদের মাধ্যমে গালিগালাজসহ তাকে জীবননাশের হুমকি দিতে থাকেন।

পরে গত ২০ জুলাই শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ইউএনও জিয়াউর রহমান শরীয়তপুর সদর উপজেলা চত্বরে চলমান বৃক্ষ মেলার একটি স্টলে বসে ডিবিসি নিউজ টেলিভিশনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি বিএম ইশ্রাফিলকে ডেকে তার কাছে নজরুলকে গালিগালাজসহ দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

এরপর ২১ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে জেলা শহরের দুবাই প্লাজায় অবস্থিত চিকন্দী ফুড পার্কে বিএম ইশ্রাফিলকে ডেকে পুণরায় কাজী নজরুলকে গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি বিএম ইশ্রাফিলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাংবাদিক নজরুলকে আমি গুলি করে মেরে ফেলবো। ওর মত সাংবাদিককে মেরে ফেললে কিছুই যায় আসে না। আমার নাম জিয়াউর রহমান। আমি যা বলি তা করে দেখাই। ওকে আমার অফিসে নিয়ে হাত-পা বেঁধে লাথি মারতে মারতে নিচে ফেলে দিব।’

এছাড়াও এ সময় তিনি নজরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করার হুমকি দেন।

এ ব্যাপারে বিএম ইশ্রাফিল বলেন, পরপর দুইদিন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান প্রকাশ্যে জনসমুখ্যে আমাকে ডেকে নিয়ে সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলামমের জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন। তাকে মামলায় জড়ানোর কথা বলেছেন। তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পেটাতে পেটাতে নিচে নামানোর হুমকি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরে বিষয়টি আমি শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারসহ সহকর্মী ও অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাই।সবার পরামর্শে সোমবার বিকেলে পালং মডেল থানায় আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও ইউএনও জিয়াউর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জিডি করেছি।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানি না।

তবে নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি সরকারি কাজ করেইতো সারতে পারি না। নজরুলকে আবার প্রাণনাশের হুমকি দেই কিভাবে? সে তো বিভিন্ন সরকারি অফিসে অডিটের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করবো।