অবাক হলেও সত্য! বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রে বিকেএসপি, বিএডিসি কর্মকর্তা!

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :: বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে এসএসসি, এইচএসসি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ব্যাংকসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে একটি চক্র। অবাক হলেও সত্য! তারা বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা। গত কয়েক বছর ধরেই ডিভাইস জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ অসাধু চক্রের সদস্যরা। এতে সরকারী কর্মকর্তা, বিসিএসে উত্তীর্ণরাসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন জড়িদের প্রমাণ পেয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবর থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যদের ধরতে মাঠে নামে সিআইডি।

অভিযানের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসানসহ প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ২৮ জনকে গ্রেফতার করে তারা। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিকেএসপির সহকারী পরিচালক, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ রাজধানীর অগ্রণী স্কুল ও ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলের দুই শিক্ষকসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। এছাড়া এতে বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্তরাও রয়েছে।

ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রতারক চক্রটি নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও আলিয়া মাদ্রাসায় প্রশ্নের উত্তর সমাধান করে বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে তা পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করতেন। এ প্রতারক চক্রটি নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পিয়নের মাধ্যমে ফাঁস করতো বলে দাবি করেছে বলে গতকাল দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, গত পাঁচ দিনের সাঁড়াশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নয় জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন- জালিয়াতি চক্রের মাস্টারমাইন্ড বিকেএসপি’র সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস, বিএডিসি’র সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম ও ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আইয়ূব আলী বাঁধন, রাজধানীর অগ্রণী স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, পিওন আনোয়ার হোসেন মজুমদার, নুরুল ইসলাম, ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম ও পিওন হাসমত আলী শিকদার।

নজরুল ইসলাম জানান, অলিপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মূলহোতা। কয়েক বছরে সে জালিয়াতির মাধ্যমে তিন কোটি টাকার বেশি আয় করেছে। আর ইব্রাহিম, মোস্তফা ও বাঁধন বিসিএসসহ সকল নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মূলহোতা। এরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাতেই নয়; মেডিকেল, ব্যাংকসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করত। এ ছাড়া বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল। এই চারজনের প্রায় ১০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।

মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরে জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও সরকারি চাকরিতে শতাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে চক্রটি।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter

You May Also Like:

  • Recent Updates
  • Top Views